ইরান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনায় রাশিয়া-চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে মস্কো ও বেইজিং। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে এমন কোনো প্রমাণ মস্কোর কাছে নেই। 

অন্যদিকে চীন এই যৌথ হামলাকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে সামরিক অভিযান স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার ইসরায়েলি সমকক্ষ গিডিওন সার-এর সঙ্গে এক ফোনালাপে বলেন যে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই এই সামরিক হস্তক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওয়াং ই ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন যে বলপ্রয়োগ করে কখনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী এবং গুরুতর পরিণাম বয়ে আনবে। চীন যেকোনো ধরনের সামরিক হামলার বিরোধিতা করে এবং সংঘাত যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে জন্য উভয় পক্ষকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

আরও পড়ুন : দু’দিনে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ৫০ 

ফোনালাপে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এর আগে বেইজিং এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরান, ওমান এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলোচনা করেছে।

মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে হিতে বিপরীত হতে পারে। তিনি যুক্তি দেন যে, ওয়াশিংটন সাধারণত পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালায় না, তাই এই হামলার ফলে ইরানের ভেতরেই এখন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পক্ষে জনমত তৈরি হতে পারে। 

ল্যাভরভ আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আরব দেশগুলোও এখন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণহীনতা তৈরি করবে। রাশিয়ার মতে, পারমাণবিক বিস্তার রোধের নামে যুদ্ধ শুরু করার এই কৌশল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ফল দিতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন : প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কমাতে মার্কিন সিনেটে ভোট আজ

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে একটি সার্বভৌম এবং স্বাধীন জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘পূর্বপরিকল্পিত এবং উস্কানিমূলক সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মস্কোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের’ প্রকৃত উদ্দেশ্য লুকিয়ে রেখে স্বাভাবিকীকরণ আলোচনার আড়ালে এই হামলা চালিয়েছে। 

তারা সতর্ক করেছে যে, এই কৃত্রিম সংকটের ফলে সৃষ্ট মানবিক, অর্থনৈতিক এবং সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের সমস্ত দায়ভার আক্রমণকারী দেশগুলোকেই বহন করতে হবে। মঙ্গলবার ল্যাভরভ তার ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলেন এবং এই সংঘাত সমাধানে কূটনৈতিক সহায়তার প্রস্তাব দেন। সূত্র: আল জাজিরা

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft