
সৎকর্মই গড়ে তোলে চরিত্র, চরিত্রই গড়ে তোলে ভবিষ্যৎ। একটি শিশুর হৃদয় হলো এক টুকরো নির্মল কাগজ। সেখানে যা লেখা হয়, তাই স্থায়ী হয়ে যায়। বাবা-মা যদি সেই হৃদয়ে নামাজ, সত্যবাদিতা, আদব ও তাকওয়ার অক্ষরগুলো সুন্দরভাবে লিখে দেন- তবে সেই সন্তান শুধু দুনিয়ায় নয়, আখিরাতেও আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে। ইসলাম শিশুকে শাসনের নয়, বরং ভালোর সঙ্গে অভ্যস্ত করার শিক্ষা দেয়। কারণ সৎকর্ম একদিনে আসে না-এটি গড়ে ওঠে অভ্যাসের মাধ্যমে।
হজরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত-
عَلِّمُوا أَوْلَادَكُمُ الصَّلَاةَ، وَعَوِّدُوهُمُ الْخَيْرَ، فَإِنَّ الْخَيْرَ عَادَةٌ
‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের নামাজের প্রতি যত্নবান করো এবং তাদেরকে সৎকর্মে অভ্যস্ত করো। কারণ সৎকর্ম একটি অভ্যাস।’ (বায়হাকি, তাবারানি)
কুরআনের আলোকে সন্তান প্রতিপালন
সন্তানের দুনিয়াবি সফলতার চেয়েও তাদের আখিরাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পিতা-মাতার প্রধান দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা আত-তাহরিম: আয়াত ৬)
সৎকর্ম কেন অভ্যাস জরুরি?
শিশুকে অল্প অল্প করে নিয়মিত ভাল কাজে অভ্যস্ত করলেই তা তাদের চরিত্রে স্থায়ী রূপ নেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
أَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ
‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো তা, যা নিয়মিত করা হয়- যদিও তা অল্প হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)
সন্তান গঠনে পিতা-মাতার করণীয় :
১️. নামাজের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন
ছোট বয়স থেকেই নামাজের সময় সন্তানকে পাশে বসান
নামাজকে চাপ নয়, বরং ভালোবাসার বিষয় বানান
২️. নিজে আদর্শ হোন
সন্তান যা দেখে, তাই শেখে
বাবা-মায়ের আচরণই তাদের নীরব পাঠশালা
৩️. সৎকর্মকে আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করুন
ভালো কাজের জন্য উৎসাহ দিন
শাস্তির আগে প্রশংসাকে অগ্রাধিকার দিন
৪️. দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চান
সন্তান হিদায়াত পায়-এটি আল্লাহর দান। তাই দোয়া অব্যাহত রাখুন।
সন্তানদের জন্য দোয়া :
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي
‘হে আমার রব! আমাকে এবং আমার সন্তানদের নামাজ কায়েমকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’ (সুরা ইবরাহিম: আয়াত ৪০)
সন্তানকে ভালো মানুষ বানাতে হলে আগে তাকে ভালোর সঙ্গে অভ্যস্ত করতে হবে। নামাজ, সত্যবাদিতা, দয়া ও শালীনতা-এসব যদি শৈশবেই হৃদয়ে গেঁথে যায়, তবে জীবনভর তা ফল দিতে থাকে। মনে রাখবেন, সন্তান কেবল আপনার নয়- সে একজন আমানত। এই আমানতের হক আদায় করাই হলো প্রকৃত সাফল্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সন্তানদের উত্তমভাবে প্রতিপালনের তৌফিক দান করুন। আমিন।