অভাব ও ঋণ মুক্তির জন্য যেসব দোয়া পড়তে বলেছেন নবিজি (সা.)
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম

অভাব ও ঋণ মানুষের জীবনে ভয়ানক মসিবত। এর বোঝা মানুষের কাঁধে জেঁকে বসে; মানুষ অন্যের কাছে ছোট হয়ে যায়। কটুকথাও শুনতে হয়। দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে জীবন অসহনীয় হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় দুনিয়ার কাজকর্মও ব্যর্থ হয়, শরিয়তের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন সম্ভব হয় না এবং ইবাদতেও মন বসে না।

রাসুল (সা.) নিজে অভাব ও ঋণের বোঝা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন এবং আমাদেরও এর উপায় শিখিয়েছেন। তিনটি প্রভাবশালী দোয়া আছে, যা নিয়মিত পড়লে আল্লাহ দুশ্চিন্তা, অভাব ও ঋণ থেকে মুক্তি দান করেন।

১️. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রথম দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ وَالْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনা-লফাকরি ওয়া-লকিল্লাতি ওয়ায-যিল্লাতি ওয়া আউজুবিকা মিন আন আযলিমা আও উযলামা

আরও পড়ুন : ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন নির্ধারণ

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দারিদ্র্য, অভাব ও অবহেলার থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি কারও প্রতি জুলুম করা থেকে বা নিজে জুলুমের শিকার হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় চাই।’ (আবু দাউদ ১৫৭৫, নাসাঈ ৩৬৮৫)

২️. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দ্বিতীয় দোয়া

اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَىْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَىْءٌ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বিস-সামাওয়াতি ওয়া রাব্বিল আরদি ওয়া রাব্বিল-আরশিল আজিমি ওয়া রাব্বি কুল্লি শাইইন ফালিকা-ল হাব্বি ওয়ান-নাওয়া ওয়া মুনযিলাত-তাওরাতি ওয়াল-ইনজিলি ওয়া-ল ফুরকানি আউজুবিকা মিন শাররি কুল্লি শাইইন আনতা আখিজুন বিনাসিয়াতিহি আল্লাহুম্মা আনতাল-আউয়ালু ফালাইসা কাবলাকা শাইউন ওয়া আনতাল-আখিরু ফালাইসা বা’দাকা শাইউন ওয়া আনতায-যাহিরু ফালাইসা ফাওকাকা শাইউন ওয়া আনতাল-বাতিনু ফালাইসা দুনাকা শাইউন ইকযি আন্না-দাইনা ওয়া আগনিনা মিনাল-ফাকরি।

আরও পড়ুন : দেশের ৮০ কেন্দ্রে মিলবে হজযাত্রীদের টিকা

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি আকাশ, জমিন ও মহান আরশের প্রতিপালক। আমাদের প্রতিপালক ও সব কিছুর প্রতিপালক। আপনি বীজ ও উদ্ভিদের সৃষ্টিকর্তা, আপনি তাওরাত, ইনজিল ও ফুরকানের অবতীর্ণকারী। আমি আপনার কাছে এমন সব ধরণের অনিষ্ট থেকে মুক্তি চাই, আপনি যার নিয়ন্ত্রক। হে আল্লাহ! আপনিই আদি, আপনার আগে কোনো কিছু নেই এবং আপনিই অন্ত আপনার পরে কোনো কিছু নেই। আপনি প্রকাশ্য, আপনার ঊর্ধ্বে কেউ নেই। আপনিই অপ্রকাশ্য, আপনার অগোচরে কিছু নেই। আমাদের ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং দারিদ্র্য থেকে আমাদের মুক্ত করে দিন।’ (মুসলিম ৬৬৪১)

৩️. হজরত আবু উমামা (রা.)-এর মাধ্যমে শেখানো দোয়া

একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে প্রবেশ করে আনসারি সাহাবি আবু উমামাকে (রা.) দেখতে পেয়ে জানতে চাইলেন, ‘মসজিদে কেন বসে আছ? এখন তো নামাজের সময় নয়।’ আবু উমামা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! ঋণের বোঝা ও সীমাহীন দুশ্চিন্তার কারণে অসময়ে এখানে বসে আছি।’

আরও পড়ুন : সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে যেভাবে বড় দোয়া করবেন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন- ‘আমি কি তোমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দেব, যা করলে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন?’

আবু উমামা বললেন, ‘অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)। তিনি বললেন, তুমি সকাল ও সন্ধায় এরূপে বলবে-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল-হাম্মি ওয়াল-হাযানি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল আঝযি ওয়াল গাসালি ওয়া আউজুবিকা মিনাল ঝুবনি ওয়াল বুখলি ওয়া আউজুবিকা মিন গালাবাতিদ-দাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে যাবতীয় চিন্তা-ভাবনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি তোমার কাছে দুর্বলতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় কামনা করছি, তোমার কাছে কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে নাজাত কামানা করছি এবং আমি তোমার কাছে ঋণভার ও মানুষের দুষ্ট প্রভাব থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছি।’ 

আরও পড়ুন : আজ পবিত্র শবে মেরাজ

হজরত আবু উমামা (রা.) বলেন, অতঃপর ঐরূপ আমল করি, যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহতাআলা আমার চিন্তা-ভাবনা বিদূরিত করেন এবং ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। (আবু দাউদ ১৫৫৫)

অভাব ও ঋণ কেবল আর্থিক সমস্যা নয়; এটি মানুষের মন, ইবাদত ও সামাজিক মর্যাদাকেও প্রভাবিত করে। নবিজি (সা.) আমাদের যে তিনটি দোয়া শিখিয়েছেন- সেগুলোই অভাব, ঋণ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির শক্তিশালী হাতিয়ার। নিয়মিত এই দোয়া পড়লে আল্লাহর রহমত, বরকত ও মানসিক শান্তি বর্ষিত হয়। বিশেষ করে সকালের ও সন্ধ্যার সময় এই দোয়া করা আরও বেশি ফলপ্রসূ। তাই আসুন, আমরা নবিজির (সা.) সুন্নাহ অনুসরণ করি এবং আল্লাহর কাছে ভরসা রেখে অভাব ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি প্রার্থনা করি।

اللَّهُمَّ اكْفِنَا بِحَلالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنَا بِفَضْلِكَ عَمَّن سِوَاكَ

‘হে আল্লাহ! আপনার হালাল দান আমাদের জন্য যথেষ্ট করুন এবং আপনার বরকত দিয়ে আমাদের সকলের প্রয়োজন মিটিয়ে দিন।’ আমিন।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft