আট মাসেও চার্জশিট হয়নি লাহুত হত্যা মামলার
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম

নেত্রকোনার মদন উপজেলার বারবুড়ি গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত লাহুত মিয়া হত্যাকাণ্ডের আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি মদন থানা পুলিশ। দীর্ঘসূত্রতা ও আসামিদের হুমকির অভিযোগ তুলে নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী আবুল বায়েছ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন।

মামলার এজাহার ও আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ মে পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মানিক মিয়া লাহুত মিয়াকে পিটিয়ে বল্লম দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় অন্যান্য অভিযুক্তদের আঘাতে আশদ আলীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাহুত মিয়া ও আশদ আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশদ আলী চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠলেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ মে লাহুত মিয়া মারা যান। পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় এবং লাশ দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন : আশুগঞ্জে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবুল বায়েছ বাদী হয়ে মদন থানায় ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০২৫ সালের ১৭ মে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই গোলাম রসুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে দীর্ঘ সময়েও চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় প্রধান আসামি মানিক মিয়া ছাড়া অন্যান্য আসামিরা বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পান।

মামলার বাদী আবুল বায়েছ অভিযোগ করে বলেন, চার্জশিট না থাকায় জামিনে মুক্ত আসামিরা তাঁকে ও মামলার সাক্ষীদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রকাশ্যে ও পরোক্ষভাবে হুমকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার প্রধান আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় তদন্তে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দিতে এত দীর্ঘ সময় নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন : রৌমারীতে ঘুষের টাকা লেনদেন নিয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ডিলারের হাতাহাতি

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম রসুল বলেন, “ঘটনাটি প্রকাশ্য দিবালোকে হলেও মামলায় ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কার আঘাতে নিহত হয়েছেন, তা নিরূপণে সময় লাগছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে।”

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “একটি হত্যা মামলায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে সময় প্রয়োজন হয়। মামলাটি তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, “মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগিরই চার্জশিট প্রদান করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft