মেলার অজুহাতে ক্লাস বন্ধ, প্রাক্‌-প্রাথমিক ভর্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:২৯ পিএম

স্কুলের পাশেই মেলা বসাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস না করিয়ে মেলায় পাঠিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাক্‌-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর এলাকার ২০নং ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ছয়জন শিক্ষক বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে গল্পগুজবে মেতে আছেন। অথচ কোনো ক্লাসরুমেই নেই কোনো শিক্ষার্থী। শ্রেণিকক্ষগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, বিদ্যালয়ের পাশেই মেলা বসেছে এই কারণে আজ শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসেনি। অন্যদিকে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, স্যাররাই তাদের ক্লাস না করে মেলায় যেতে বলেছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ বলেন, স্যারেরা বলেছে আজকে ক্লাস হবে না, তোমরা মেলায় গিয়ে খেলাধুলা কর।

আরও পড়ুন : গোয়াইনঘাটে গাছের জন্য আটকে আছে রাস্তার উন্নয়ন কাজ

এদিকে প্রাক্‌-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তির নামে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক অভিভাবকের দাবি, সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাচ্চাকে প্রাক্‌-প্রাথমিক ক্লাসে ভর্তি করাতে গেলে বলা হয় চা-নাস্তা, ফাইল, কাগজপত্রের নামে কিছু টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে ভর্তি নিয়ে গড়িমসি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহানা ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক লতিফা আক্তার বলেন, প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এখানে একটি বার্ষিক মেলা হয়। মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশে দোকানপাট বসে। এজন্য আজ শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসেনি। তবে আমরা শিক্ষকরা যথারীতি উপস্থিত আছি।

ভর্তির নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, ভর্তির সময় অভিভাবকরা আমাদের চা-নাস্তার জন্য স্বেচ্ছায় কিছু দিয়ে থাকেন। এতে দোষের কিছু নেই।

আরও পড়ুন : কাপাসিয়ায় মাহিম নামে এক কিশোর নিখোঁজ: সন্ধানে মায়ের আকুতি

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষাব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে বিধি মোতাবেক অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুসুম মনি জানান, আমি কিছুদিন আগেই ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। তখনও লক্ষ্য করেছি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ক্লাস ফাঁকি, শিক্ষার্থীদের দায়িত্বহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং ভর্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে। সত্যতা মিললে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft