সম্পত্তি বিরোধে পিতার মরদেহ দাফনে বাধা, ৩৮ ঘণ্টা পর সামাজিক উদ্যোগে দাফন সম্পন্ন
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০৭ এএম আপডেট: ২২.১২.২০২৫ ১:১৯ পিএম

সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক পিতার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সন্তানদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বে মরহুম মোহাম্মদ সেকান্দর মিয়া (৭০)-এর মরদেহ দীর্ঘ ৩৮ ঘণ্টা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত লাশবাহী গাড়িতে পড়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে রোববার সন্ধ্যায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ঘটনাটি ঘটে হাটহাজারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফটিকা গ্রামের করিয়ার দিঘীরপাড় এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব মেখল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম দানা মিয়া সওদাগরের বাড়ির মৃত নক্স মিয়ার বড় ছেলে মোহাম্মদ সেকান্দর মিয়া শনিবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পেশায় একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৯৮৮ সালে তিনি ফটিকা এলাকায় জমি ক্রয় করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। জীবদ্দশায় তিনি দুটি বিয়ে করেন। ১৯৯০ সালে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। প্রথম সংসারে তার পাঁচ সন্তান- আয়েশা আক্তার (৪৭), জোহরা আক্তার (৩২), সাজু আক্তার (৩০), মো. এরশাদ (৪৩) ও মঞ্জুর মোর্শেদ (৪০)। দ্বিতীয় সংসারে রয়েছে তিন সন্তান- প্রতিবন্ধী কন্যা নাজমুন্নাহার, মো. এমতিয়াজ (৩০) ও মো. এমদাদ (২৮)।

আরও পড়ুন : নাসিরনগর আইএলএসটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: নিয়োগ সংকট ও অবৈধ কোর্স বাতিলের দাবিতে ক্যাম্পাস শাটডাউন

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মৃত্যুর আগে সেকান্দর মিয়া তার সব সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের নামে হেবা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দেন। এ নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় সংসারের সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সংসারের সন্তানরা দাফনের প্রস্তুতি নিলেও সংবাদ পেয়ে প্রথম সংসারের তিন কন্যা বাবার বাড়িতে এসে সম্পত্তিতে নিজেদের অধিকার দাবি করেন। একই সময়ে প্রবাসে থাকা ছোট ছেলে মঞ্জুর মোর্শেদ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরেন।

অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টন না হওয়া পর্যন্ত দাফনে অনুমতি দেওয়া হবে না-এমন শর্তে মরদেহ আটকে রাখা হয়। ফলে একাধিকবার জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলেও দুই পক্ষের বিরোধের কারণে তা স্থগিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শোক বা কান্নার পরিবর্তে সেখানে সম্পত্তি নিয়ে তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিক দফা বৈঠক করেন। ভবিষ্যতে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিলে অবশেষে উভয় পক্ষ দাফনে সম্মতি দেয়।

আরও পড়ুন : রাণীনগরে একই দিনে ৪ চুরি

দীর্ঘ ৩৮ ঘণ্টা পর রোববার মাগরিবের নামাজের পর হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়নের বাদামতলা এলাকায় নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন মোহাম্মদ সেকান্দর মিয়া।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষায়, মন্তব্য করলে আইনি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই পরিবারের সন্তানদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে রোববার সন্ধ্যা ৬টার পর দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft