প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১০ পিএম

অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেছেন, যে শক্তি কোনো গণআন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী হয়, তারাই দেশের আগামীর গতিপথ নির্ধারণ করে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী শক্তি যেমন ১৯৭২ সালের সংবিধান উপহার দিয়েছিল, তেমনি ১৯৯০ সালের বিজয়ী শক্তি দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছিল। আর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিজয়ী শক্তিই নির্ধারণ করবে আগামীর গণভোট কেমন হবে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে।
আজ শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে জাতীয় জাগরণের কবি গোলাম মোস্তফার জন্ম ও মৃত্যুদিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। কবির পৈতৃক ভিটায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন এ আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, রাজউকের সদস্য ও যুগ্ম সচিব মো. গিয়াস উদ্দিন এবং শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কবি গোলাম মোস্তফা জাতীয় জাগরণের কবি। তাঁর লেখনীতে বাঙালি মুসলমানের জীবনদর্শন, সংগ্রাম ও চেতনা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম চর্চার মাধ্যমে মানুষ তাদের অধিকার, ঐতিহ্য ও সাম্যবাদী চেতনা সমুন্নত রাখতে পারবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ সত্ত্বার নাম। সেই নামে যেকোনো কর্মকাণ্ডই অপরাধ বলে গণ্য হবে। গণহত্যার মামলার রায়কে ঘিরে দলটির নৈরাজ্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনগতভাবেই মোকাবিলা করবে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তিনি দাবি করেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী শক্তিগুলোর উপরই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের গতিপথ নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় সংগীত, কুরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে অতিথিদের উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফিরোজ খান নূন কবি গোলাম মোস্তফার স্মরণে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মিয়া মোশাররফ হোসেন এবং কবির সন্তান, বরেণ্য চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ারকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।