প্রকাশ: রোববার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:২৪ পিএম আপডেট: ১৪.০৯.২০২৫ ১:৫৮ পিএম

রোমানিয়ার আকাশসীমায় রাশিয়ার একটি ড্রোন প্রবেশ করায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনা ঘটেছে, যখন রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর সময় সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোনটি রোমানিয়ার আকাশে প্রবেশ করে। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে দেশটি যুদ্ধবিমান উড়িয়ে ড্রোনটি ধাওয়া করেছে।
রোমানিয়ার দুটি এফ-১৬ এবং দুটি জার্মান ইউরোফাইটার যুদ্ধবিমান ড্রোনটি অনুসরণ করে। সর্বশেষ এটি চিলিয়া ভেচে গ্রামের কাছাকাছি দেখা গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োনুত মোস্টেনেউ জানিয়েছেন, পাইলটরা ড্রোনটি ভূপাতিত করার কাছাকাছি গিয়েছিলেন, কিন্তু তা পুনরায় ইউক্রেন সীমান্তের দিকে চলে যায়। সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করতে হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অন্যতম সদস্য রোমানিয়া হওয়ায় এটি ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ড্রোনটি রোমানিয়ার প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে ৫০ মিনিট ধরে ন্যাটো আকাশসীমায় অবস্থান করেছে। তিনি বলেন, এটি রাশিয়ার যুদ্ধ সম্প্রসারণের অংশ এবং এখন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি।
রোমানিয়ার এই ঘটনায় সুইডেনও নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনেরগার্দ বলেন, ন্যাটো আকাশসীমায় এটি একটি অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন। এর আগে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ঢুকে রাশিয়ার ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছিল। ন্যাটো পূর্ব ইউরোপে প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন, যদি প্রমাণ হয় ড্রোনটি ইচ্ছাকৃতভাবে পোল্যান্ডকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল, তা ‘চরম উসকানিমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সব ন্যাটো দেশ একসঙ্গে পদক্ষেপ নিলে এবং রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করলে তিনি মস্কোর ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও কঠিন করছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা, রয়টার্স
জ/জ