প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৩৯ এএম

রাষ্ট্রের কোনো ডকুমেন্ট বা আইন সংবিধানের চেয়ে বড় বা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। কেননা সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন এবং সংসদ যদি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস করে, সর্বোচ্চ আদালত সেটি বাতিল করতে পারেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ এর ২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোনো আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তাহলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।
কিন্তু জুলাই সনদের যে খসড়া সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে এটিকে সংবিধানের ওপরে স্থান দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ খসড়া নিয়ে সামগ্রিকভাবে খুব বেশি আপত্তি নেই বিএনপির। সনদে উত্থাপিত ৮৪ দফার মধ্যে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং যেসব বিষয়ে দলগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, সেগুলোর সমাধানের পথ কী হবে, তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে দলীয় মতামত তুলে ধরবে। বিএনপি মনে করে, যেসব প্রস্তাবে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয়গুলো যে কোনো সময় অধ্যাদেশসহ সরকারের নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়নযোগ্য। আর যেগুলো সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো নির্বাচিত পরবর্তী সংসদ করবে। বৈঠকে দলটির নেতারা অভিমত ব্যক্ত করে আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রাথমিক খসড়ায় সংবিধান সংশোধন ও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো আগামী সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএনপি এটা বাস্তবায়নেরও পক্ষে ছিল। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত খসড়ায় সেই অঙ্গীকার আর নেই।
বৈঠকে সনদের পূর্ণাঙ্গ খসড়া নিয়ে প্রয়োজনীয় বিচার-বিশ্লেষণ শেষে দলীয় মতামত জানাতে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অবশ্য বিএনপি যেসব মৌলিক প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, সেগুলোয় ছাড় দিতে চায় না। এখানে বিএনপি তাদের আগের অবস্থানেই থাকতে চায়। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন না, নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন অন্যতম।
বিএনপি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার কিছু ভারসাম্য আনতে রাজি। তবে এমন ভারসাম্য চায় না, যেখানে সরকারপ্রধান তথা প্রধানমন্ত্রীর হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে না। দলটি মনে করে, সার্বিক বিবেচনায় সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষমতায়িত করা হলে সংসদীয় গণতন্ত্র তেমন অর্থবহ থাকবে না। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা না থাকলে, সংসদীয় গণতন্ত্র অকার্যকর হয়ে পড়বে।
জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত খসড়া নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ খসড়ায় উত্থাপিত ৮৪ দফার মধ্যে যেসব দফায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ এসেছে সেগুলোর সুরাহা কীভাবে হবে এবং সংবিধান সংস্কারবিষয়ক যেসব কথা এসেছে, তার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সেটা এখন জরুরি। এসব কিছু পর্যালোচনা করে ঐকমত্য কমিশনকে মতামত জানাবে বিএনপি।
আজ বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যে ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত খসড়ার বিষয়ে দলীয় মতামত জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।
জ/উ