রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম মুরাদ ওরফে পলিথিন মুরাদ এখনও বেপরোয়া। বিএনপির কথিত কিছু স্থানীয় নেতারা অর্থের বিনিময়ে পলিথিন মুরাদকে প্রকাশ্য সাপোর্ট করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক এমপি হাজী সেলিমের আস্থাভাজন হওয়ায় পুরান ঢাকায় তার অপরাধমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, বিএনপির মুখোশ পরা কিছু নেতা আওয়ামীলীগকে বুকে ধারণ করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পলিথিন মুরাদকে প্রকাশ্য সাপোর্ট করছে। ওইসব দালাল নেতাদের কারণে আজ বিএনপি সর্ব মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। যার কারণে আমিনুল হক মুরাদ আওয়ামী লীগ পূর্ণবাসন করার কারিগর হয়ে উঠেছে। যা সর্বমহলের মানুষের জানা থাকলেও অনাকাঙ্খিত ঘটনার উদ্ভব হওয়ার আশঙ্কায় সবাই যেন নিজেদের মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তাই নির্দ্বিধায় সে আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত করার কাজে একরকম প্রকাশ্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৪ কিমি যানজট
জানা যায়, গত বছরের জুলাই আন্দোলন দমনে নিজের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গুরুতর আহত করেছেন। তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উপর স্বশরীরে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামী হয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছু দিন জেলে ছিলেন। এর কিছু দিন পরই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় অবৈধ পলিথিন ব্যবসাসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ড পুনরায় শুরু করেছেন। এতে করে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটলেও তিনি দুহাতে কামিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।
আরও জানা যায়, ইমামগঞ্জ নিউ রহমানিয়া ওরফে মধুপুর ট্রান্সপোর্টের মালিক এই পলিথিন মুরাদ। তিনি অবৈধ পলিথিন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ারও মূল কারিগর। বিগত ১৭ বছরযাবত আওয়ামীলীগ সরকারের ছত্রছায়ায় সারা বাংলাদেশে পলিথিন সরবরাহ করে পরিবেশ ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে। ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হওয়ায় আওয়ামী সরকারের আমলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ পলিথিন ব্যবসার টাকা আন্দোলনকারীদের উপর হামলায় ব্যয় করেছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে জুলাই আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় দুইটি হত্যা মামলাসহ বেশ কিছু মামলা। এর মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জের বাহুবল থানার (জিআর মামলা নং- ১১৬, তারিখ:২৭/০৮/২০২২ ইং) বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার (জিআর মামলা নং- ০৫, তারিখ: ২০/০১/২০২৩ ইং), হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার (জিআর মামলা নং-৯৭. তারিখ: ০৫/১২/২০২২ ইং), ঢাকার চকবাজার থানার (জিআর মামলা নং-৪১/৩৩০, তারিখ: ২৯/০৮/২০২০ ইং), পল্টন থানার (জিআর মামলা নং ২৫, তারিখ: ১৬/০৯/২০২৪ ইং), যাত্রাবাড়ী থানার (জিআর মামলা নং- ১৮, তারিখ: ০৫/০১/২০২৫ ইং), যাত্রাবাড়ী থানার (জিআর মামলা নং- ৫১, তারিখ: ২০/০৯/২০২৪ ইং), সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় আরো কিছু মামলা রয়েছে।
জানা যায়, তিনি হাজী সেলিমের নির্দেশে সরকার বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের মিছিল ও সমাবেশে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও ৫ আগস্টের পর হাজী সেলিম ও তার ছেলের নির্দেশে পুনরায় আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের উজ্জ্বিবিত করতে মোটা অংকের টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানা যায়।
এছাড়াও তিনি বর্তমানে মোটা অংকের টাকা দিয়ে প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ও অবৈধ পলিথিনের ব্যবসা শুরু করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ইন্ধন দিচ্ছেন।
এছাড়াও গোপনে পলাতক আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা যায়।