প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫, ৫:১০ পিএম

রাজধানীর মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের পরপরই সেখানে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। উৎসুক জনতার কারণে উদ্ধার কাজও ব্যাহত হচ্ছিল। অনেকেই বিরক্ত হচ্ছিলেন এদের কার্যকলাপের কারণে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে এতো উপদেষ্টা যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কী সেটা নিয়েও আলোচনা সমালোচনা হচ্ছিল।
তবে এসবের বাইরে অনেক প্রশংসনীয় ঘটনাও রয়েছে। যেমন এই দুর্ঘটনার পরপরই যখন শোনা গেলে রক্ত প্রয়োজন, তখনই হাসপাতালগুলোতে লাইন পড়ে গেল। মানুষজন রক্ত দিতে উদগ্রীব। সিলেট থেকে এক নারী চলে এসেছেন রক্ত দিতে।
এবার দেখা গেল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা ঢাকার বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে জড়ো হয়েছেন। তারা রক্ত দিতে চান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা বলছেন, আমরা খবর শুনেছি আমাদের বাচ্চারা আহত হয়েছে, তাদের প্রচুর রক্ত দরকার। বাচ্চারা কষ্ট পাচ্ছে।
এসব শুনে আমরা ছুটে এসেছি, আমাদের রক্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আমরা রক্ত দেব।
আরেকজন বলছেন, আমরা গতকালই শুনেছি। গতকাল আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু গতকাল নাকি রক্ত লাগবে না, তাই আজ চলে এসেছি। আমরা কুড়িল বিশ্বরোডের কাছে থাকি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা চলে এসেছি।
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে দুই জন প্রাপ্ত বয়স্ক ছাড়া বাকি সবাই শিশু। প্রাপ্ত বয়স্কদের একজন পাইলট তৌকির ইসলাম ও একজন শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরী। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৭৮ জন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান, সোমবার (২১ জুলাই) রাতে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আরো আটজনের মৃত্যুর পর এ সংখ্যাটি এসে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এখানে ভর্তি আছে ৪২ জন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে গতকাল রাতে আরো তিনজন ভর্তি হয়ে এখন চিকিৎসাধীন আছে ২৮ জন। সেখানে সবমিলিয়ে ১৫ জনের মরদেহ ছিল। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয় একজনের মরদেহ। এছাড়া উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল থেকে আরেকজনের দেহাবশেষ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও চিকিৎসকরা এখনই এটিকে মরদেহ বলে শনাক্ত করেননি। এটি মরদেহ হিসেবে শনাক্তের পর ডিএনএ টেস্ট করা হবে। সিএমএইচ থেকে আটজনের মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাইলট তৌকিরের মরদেহ সিএমএইচে রাখা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ছয়জনের মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাদের ডিএনএ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা গেছে। সেখানে তিনজন এখন ভর্তি আছে, যাদের দুইজন আইসিইউতে আছে। এছাড়া ইউনাইটেড হাসপাতালে একজনের মরদেহ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ২৭ জন, হাসপাতালে ভর্তি আছে ৭৮ জন।