মুরাদনগরে ধর্ষনের ঘটনায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৫
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৯ জুন, ২০২৫, ৫:০৬ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক হিন্দু নারীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ ও বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ার পর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ফজর আলীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ রোববার (২৯ জুন) ভোরে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে ফজর আলীকে গ্রেফতার করা হয়। একই মামলায় অভিযুক্ত তার অন্যান্য সহযোগীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. শহীদের ছেলে ফজর আলী, আব্দুল হান্নানের ছেলে সুমন, জাফর আলীর ছেলে রমজান, মো. আলমের ছেলে মো. আরিফ, মো. তালেম হোসেনের ছেলে মো. অনিক। তারা সবাই কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাহেরচর গ্রামের পাঁচকিত্তা এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ভিডিও ও মামলার তদন্তের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। যারা ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিডিও ছড়ানোও একটি গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনার প্রতিটি অংশ বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত করছি—অপরাধী কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।’

এদিকে, ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। মুরাদনগরের বাহেরচর পাচকিত্তা গ্রামে এক হিন্দু নারীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত ফজর আলী। বাড়িতে ওই সময় নারীর বাবা-মা ছিলেন না। সুযোগ বুঝে ফজর আলী কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী নারী।

এ সময় তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে অভিযুক্তকে ধরে মারধর করে। কেউ কেউ সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত ১০ থেকে ১২ জন যুবক ঘরে ঢুকে নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। পরে, ভুক্তভোগী নারীর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

এদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শুক্রবার নির্যাতিত নারী নিজেই মুরাদনগর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মূল অভিযুক্ত করা হয় ফজর আলীকে। ভুক্তভোগী জানান, তাঁর স্বামী পাঁচ বছর ধরে বিদেশে থাকেন। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

এই বিষয়ে, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্য ও হৃদয়বিদারক। আমরা মূল অভিযুক্তসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। যারা ভিডিওতে নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft