‘পর্যবেক্ষণ নীতিমালা’ চূড়ান্ত, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ১:২৭ পিএম

আসন্ন ‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে ‘পর্যবেক্ষণ নীতিমালা’। শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। আজ মঙ্গলবার (১৭ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতিমূলক নানা কাজ করছে কমিশন। তারই ধারাবাহিকতায় চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘পর্যবেক্ষণ নীতিমালা’।

কবে নাগাদ প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘খুব শিগগিরই জারি করা হবে প্রজ্ঞাপন।’

‎‎নতুন এই নীতিমালা জারি হলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় নিবন্ধিত ৯৬টি সংস্থার নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। পাশাপাশি আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন দিয়েছে এমন পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন না দেওয়া বিধানও রাখা হয়েছে।
‎কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নীতিমালা নতুন যোগ করা হয়েছে যে, আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে। পূর্বের নীতিমালায় পর্যবেক্ষক হওয়ার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমান ছিল। আর সব যোগ্যতা আগের মতোই থাকছে।
‎ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক বা গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নতুন নীতিমালায় কার্ড পেতে আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে।
‎বরং ভোটের তিনদিন আগে সাংবাদিক কার্ডের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করার বিধান ছিল আগে; এবার তা বাড়িয়ে এক সপ্তাহ আগে করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
‎Guidelines for International Election Observer and Foreign Media এ উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো পরিবর্তন আসছে না।
‎সেইসঙ্গে আলোচিত সবশেষ তিনটি নির্বাচনে যেসব পর্যবেক্ষক সংস্থা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল তাদের নিবন্ধন না দেওয়ারও বিধান রয়েছে।
‎নতুন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা প্রজ্ঞাপন জারি হলে সংস্থাগুলোকে নিবন্ধন দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেবে কমিশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নীতিমালা মেনে আবেদন করতে হবে আগ্রহীদের। এরপর যাচাই-বাছাই শেষ করে ইসি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিষয়ে দাবি-আপত্তি চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে।

‎এছাড়া, পর্যবেক্ষক সংস্থার দায়িত্ব, পর্যবেক্ষক মোতায়েন, পর্যবেক্ষকদের করণীয়, বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন সংক্রান্ত বিধান ও পর্যবেক্ষকদের আচরণ বিষয়ে বিধানে কোনো পরিবর্তন আনা হয় নি।

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ (জানিপপ) চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ জানিয়েছেন, কমিশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তিনি। বলেন, পর্যবেক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক করা উচিত। কারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এতোটা সহজ বিষয়ও নয়। ভোট শেষে একটা প্রতিবেদনও জমা দিতে হয়। কাজেই বিষয়টা আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পর্যবেক্ষক নিবন্ধন প্রথা শুরু করে ইসি। সে সময় ১৩৮টি সংস্থা নিবন্ধন পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক ছিল এক লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ২০১৪ সালে ৩৫টি সংস্থার আট হাজার ৮৭৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট দেখেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৮টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮১টি দেশি সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৬টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮০টির মতো সংস্থার ২০ হাজার ২৫৬ জন ভোট দেখেছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft