প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩১ পিএম

দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা এবং বাজারের অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের প্রভাবে এ দরপতন হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৮ দশমিক ৩২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৯ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হয়।
এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, গত সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় স্বর্ণের বাজার একটি সমর্থন স্তর (সাপোর্ট লেভেল) গড়ে তুলছে। তবে বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় রয়েছেন, যা থেকে সুদের হার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ তার প্রথম বৈঠকে ভবিষ্যতের সুদের হার নিয়ে আগের মতো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি। তার মতে, আগাম নির্দিষ্ট সংকেত দিলে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নমনীয়তা কমে যেতে পারে।
চলতি বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ইতোমধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ, শক্তিশালী ডলার এবং সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলেছে।
তবে সোমবার স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। যুদ্ধবিরতির পর মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন স্বল্পমেয়াদে সুদের হার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেপ্টেম্বরে সুদের হার পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাজারে প্রায় ৫৬ শতাংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ৬০ শতাংশের বেশি ছিল। সাধারণভাবে সুদের হার কম থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৪৮ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬২৯ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৭২ দশমিক ৮৫ ডলারে পৌঁছেছে।
জ/উ