
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য নেতা ছিলেন। তবে তার অনুরোধে এরদোগান সংঘাতে জড়াননি। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তার আহ্বানে সংঘাতে জড়াননি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। এক তুর্কি সাংবাদিক তার সম্ভাব্য আঙ্কারা সফর এবং তার ভাষায় ‘ভালো বন্ধু’ এরদোগান ও তুরস্কের জনগণের উদ্দেশে বার্তা জানতে চাইলে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে পছন্দ করি, তিনি আমার বন্ধু এবং তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তাতে জড়াননি। তিনি ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন-এমনকি হয়তো ইরানের পক্ষেও যেতে পারতেন। কারণ, তিনি ইসরাইয়েলের খুব ভক্ত নন। আমি তাকে এতে না জড়াতে বলেছিলাম এবং তিনি বাইরে ছিলেন।’
নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প কূটনৈতিক যোগাযোগকে বড় আঞ্চলিক সংঘাত ঠেকানোর কার্যকর উপায় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যত দিন প্রেসিডেন্ট থাকবেন তত দিন ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে কোনো সংঘাত হবে না। এবারও সেই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে তিনি জানান, এরদোগানকে তিনি সরাসরি সংঘাত থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন এবং তার দাবি অনুযায়ী, তুর্কি প্রেসিডেন্ট তা মেনে চলেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এরদোগান একজন দুর্দান্ত নেতা, খুব শক্তিশালী মানুষ এবং তার একটি খুব ভালো সামরিক বাহিনী আছে। আমি তাকে এতে না জড়াতে বলেছিলাম এবং তিনি সেটিই করেছেন।’
তবে শুধু তুরস্ক নয়, আরও কয়েকটি বড় শক্তিকেও তিনি সংঘাতের বাইরে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আর জানেন কে অসাধারণ ছিলেন? চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। তিনিও এতে জড়াতে পারতেন। ওই অঞ্চল থেকে তিনি তার তেলের অর্ধেক পান। বুঝতেই পারছেন কেন তিনি এতে জড়াতে চাইতে পারেন। আমি তাকে অনুরোধ করেছিলাম, দয়া করে এতে জড়াবেন না। আর তিনি জড়াননি। আমরা ভালো কাজ করেছি।’
পরে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এবং সি চিন পিংও তা-ই করেছেন। সত্যি বলতে, যদি ভালো করে দেখেন, পুতিনও তা-ই করেছেন। যদিও বলা যায়, ভ্লাদিমিরের মনোযোগ দেওয়ার মতো অন্য বিষয়ও আছে। কিন্তু তারা সবাই বাইরে ছিলেন। বিষয়টা বেশ বিস্ময়কর ছিল। মানুষ অবাক হয়েছিল।’
তবে তুরস্ক ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিতে পারত বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তার ভিত্তি কী, তা স্পষ্ট নয়। সংঘাত চলাকালে ইরান থেকে তুরস্কের দিকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ/উ