
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর ইছাকুড়ি গ্রামের জিঞ্জিরাম নদীর ওপর একটি ব্রীজের অভাবে সাত গ্রামের মানুষের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসি দীর্ঘদিন থেকে একটি ব্রীজের দাবী করে আসলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন। বর্তমানে গ্রামবাসির অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে কোমলমতি স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও স্বারকলিপি সহ নানা কর্মসূচী পালন করে আসছেন এলাকাবাসি।
বুধবার (৬ মে) সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের পূর্ব ইছাকুড়ি সংলগ্ন জিঞ্জিরাম নদীতে বাঁশের সাকোঁ দিয়ে পূর্ব ইছাকুড়ি, মির্জাপাড়া, ফুলবাড়ি, উত্তর গোয়াল গ্রাম, ঠনঠনিপাড়া, গোয়সুল্লের চর ও কোনাচীপাড়া সহ সাতটি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পারাপার হয়।
বিকল্প কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কোমলমতি স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক, সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবি সহ নানা পেশাজীবি মানুষ জীবনের ঝুকিনিয়ে যাতায়াত করছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণেও চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এই দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে স্থায়ী ভাবে একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসি।
ফুলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমান জানান, কয়েকযুগ ধরে আমরা একটি ব্রীজের অভাবে কষ্ট করে চলছি। আমাদের সন্তাানরা নড়েবড়ে বাঁশের সাকোঁ দিয়ে যাতায়াত করে। যে কোন মুহুর্তে বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সরকারের কাছে ব্রীজের দাবী করছি।
রৌমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দ আলী বলেন, নদীর এপার ও ওপারে লোকজন খুব কষ্ট করে পার হয়। সবচেয়ে রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় আমাদের। তাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের কাছে আমার জোরদাবী ব্রীজটি করে দেওয়া হোক।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, একটি ব্রীজ হলে শিক্ষার মান উন্নতি হবে। কৃষিখাতে উন্নয়ন সহ সকল সমস্যা দুর হবে। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে একটি ব্রীজের দাবী জানাচ্ছি।
রৌমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দ আলী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়ন করছে। আমরা রৌমারীর এই জনপদের মানুষও উন্নয়নের সুফল চাই। দ্রুত জিঞ্জিরাম নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
রৌমারী সদর ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, ব্রীজের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কয়েকবার কথা বলেছি এবং তারা আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সাথে পূর্ব দিকে অপদখলীয় সরকারি রাস্তা বের করে মঙ্গার শ্রমিক দিয়ে কিছু মাটি ভরাট করা হয়েছে। সরকারের কাছে দাবী করছি ব্রীজটি করে দেওয়ার জন্য।
রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে এবং তারা সরেজমিনে পরিদর্শণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্খা নেওয়ার কথা বলেছেন।
উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, ব্রীজের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ করা হবে।
জ/দি