প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২:১০ পিএম

বৈশাখ-আষাঢ়ের মৌসুম এলেই নাটোরের গুরুদাসপুর যেন লাল টসটসে মোজাফ্ফর লিচুর রঙে নতুন প্রাণ ফিরে পায়। ভোর হতেই উপজেলার বিভিন্ন বাগান থেকে কৃষকেরা লিচু নিয়ে ছুটছেন আড়তে, আর দিনভর চলে জমজমাট কেনাবেচা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৪১০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই আগাম জাতের মোজাফ্ফর লিচু। উৎপাদনের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়-গঙ্গারামপুর কানু মোল্লার বটতলা এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ১৫টি অস্থায়ী লিচুর আড়ত। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে লিচু কিনে ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মোকামে পাঠাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি ট্রাক লিচু সরবরাহ হচ্ছে সারাদেশে।
আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোতালেব মেম্বর বলেন, “গুরুদাসপুরের বিভিন্ন বাগান ও আড়ত মিলিয়ে প্রতিদিন কোটি টাকারও বেশি লিচুর বেচাকেনা হচ্ছে। শুধু এই মৌসুমি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭ হাজার মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।”
লিচুচাষিরা জানান, অতিরিক্ত গরম ও অনাবৃষ্টির কারণে কিছু লিচু ঝরে পড়লেও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “গুরুদাসপুরের লিচুর সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী ও কৃষকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন বাণিজ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।”
সন্ধ্যা নামার পরও থেমে থাকে না লিচুর বাজারের ব্যস্ততা। ট্রাকের আলো, শ্রমিকের হাঁকডাক আর আড়তের কোলাহলে মুখর থাকে পুরো এলাকা। কৃষকের ঘরে স্বস্তির হাসি এনে দিয়ে লিচু এখন গুরুদাসপুরের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
জ/দি