
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
সড়কমন্ত্রী বলেন, আমরা যেটা চাচ্ছি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে। রাস্তার প্রশস্ত করার চাহিদা বাংলাদেশে আছে। এই দুই মাসে মেম্বার অব পার্লামেন্টের যে ডিও দিয়েছে তাতে ৩ লাখ কোটি টাকা লাগবে এই রাস্তা সম্প্রসারণ করার জন্য। বাজেটে পাবেন আপনি সর্বোচ্চ হয়ত ৪০ হাজার কোটি টাকা। এটা আমার ধারণা। বিগতদিনের কথা বলে বলছি। এই বাজেটে কি পাব জানি না। এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের একটা সিলেক্ট করে কাজ করতে হবে। আমরা সেই জায়গায় স্বচ্ছতার সঙ্গে, নিরপেক্ষভাবে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি।
হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ করার ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা আমাদের আছে। তবে আমাদের হাইওয়েগুলো এখনো পুরোপুরি সুরক্ষিত (প্রটেক্টেড) নয়। আমরা এখনো হাইওয়েতে থ্রি-হুইলারের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ (রেস্ট্রিক্টেড) করতে পারিনি। এর প্রধান কারণ হলো, সড়কের যেকোনো জায়গা দিয়ে ছোটখাটো সংযোগ রাস্তা রয়েছে। যার ফলে এটা হয়ত নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কিন্তু আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এটা একটু নিয়ন্ত্রণ বেশি করা গেছে। পর্যায়ক্রমে এটাকে কীভাবে করা যায়, সেই ব্যবস্থাগুলো নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আশা করছি যে পর্যায়ক্রমে এটা নিয়ন্ত্রণ হবে। কারণ থ্রি হুইলার যেভাবে চলছে, সেটা চলতে পারে না।
ট্রেনের মধ্যে পাথর ছুড়ে মারা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রোড সেফটির জন্য এটা খুবই ভয়ংকর এবং এই প্রাকটিসটা আছে। এটা বন্ধ করার জন্য আমরা ডিসিদের আরও তৎপর হতে বলেছি এবং আমাদের যারা আছেন বিশেষ করে, রেলওয়েতে যারা আছেন। রেলওয়ে পুলিশ, গার্ড রেলওয়েতে যারা আছেন নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আরও তৎপর করছি। জনসচেতনতা বাড়ানো দরকার। দেখা গেল, খেলা করতে করতে বাচ্চারা গ্লাসে ডিল ছুঁয়ে মারছে। কে গ্লাসে লাগাতে পারে এই প্রচেষ্টাও আছে। ওই অঞ্চলে মানুষকে সচেতন করা, সজাগ করা সেটাও একটা অংশ সবভাবে চলছে।
চাঁদাবাজি নিয়ে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ে এর আগেও অনেকবার কথা বলেছি। আমি আবারও আপনাদের বলতে চাই, চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। চাঁদাবাজি একটি অপরাধ, যারা চাঁদাবাজি করছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোপূর্বে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আরও পর্যায়ক্রমে, যে বিচ্ছিন্ন যেগুলো আছে, সেগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার একটি চেষ্টা আছে।
আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে মহাসড়কগুলোর যানজটের বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যানজট কীভাবে এড়ানো যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার আরও একটু চ্যালেঞ্জ হবে, কারণ গরুর বহনকারী প্রচুর ট্রাক আসবে। গতবার দেড় কোটি ছিল, ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে যাওয়ার যাত্রী আর এবার আড়াই কোটি হয়ে যাবে প্রায়। এক কোটি গরু মুভ করবে অর্থাৎ চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি।
জ/ই