
একটি ছোট্ট ব্রীজ। ছয়টি গ্রাম সংযোগ করেছে। কিন্তু ব্রীজটি নির্মাণের ৩০ বছর পার হলেও সংযোগ সড়ক নির্মান করা হয়নি। গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে একটি বাঁশের সাকো বসিয়ে চলাচল করছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ছয়টি গ্রামের হাজারো নারী-পুরুষ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসী দ্রুত ব্রীজটির সংযোগ সড়ক নির্মানের দাবী জানিয়েছেন।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৯নং কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের রামগাতী, বিয়ারাঘাট, ছোটপিয়ারি, বড়পিয়ারি, ঘোনাপাড়া ও চর সাপড়িসহ আদিবাসী পল্লীর কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের জন্য প্রায় ৩০ বছর আগে একটি কালভার্ট ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্রীজের দুপাশে নেই কোন সংযোগ সড়ক।
শুকনো মৌসুমে কোনরকম চলাচল করা গেলেও বর্ষায় দুর্ভোগ বেড়ে যায়। সংযোগ সড়কের কাছে গভীর খাত থাকায় পানি জমে থাকে। ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বরদের বলেও কোন কাজ হয়নি। এ অবস্থায় গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে একটি বাঁশের সাকো নির্মাণ করেছে।
বিয়ারা গ্রামের আফজাল হোসেন জানান, ব্রীজের সংযোগ সড়ক না থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে কোন রকম চলাচল করা হলেও বর্ষা মৌসুমে একেবারেই চলাচল করা যায় না।
রোকেয়া বেগম জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় গর্ভবর্তী রোগী, বয়স্ক মানুষ ও শিশু ও শিক্ষার্থীদের চলাচল কস্টকর হয়ে পড়েছে। বাঁশের সাকে দিয়ে কোন রোগী হাসপাতালে নেয়া যায় না।
কৃষক রমজান আলী জানান, ব্রীজের সংযোগ না থাকায় কৃষকরা কৃষি পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
স্কুল শিক্ষক জানান, বর্ষা মৌসুমে ছাত্ররা স্কুলে আসতে পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
আদিবাসী পল্লীর অমল সিং জানান, দ্রুত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ রাস্তা সংস্কার হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী রুমানা আফরোজ জানান, স্থানীয়দের আবেদনের ব্রীজটির সংযোগ সড়ক স্থাপনসহ বিয়ারাঘাট মোড় থেকে চর সাপড়ি স্কুল পর্যন্ত রাস্তা নির্মানের জন্য ‘স্বল্প ব্যয় গ্রাম সড়ক ব্রীজ কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে’ অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে টেন্ডারের মাধ্যমে সংযোগ সড়ক ও রাস্তা নির্মান করা হবে।
জ/দি