প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ডিএনএ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রধান অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুগারবেইয়ের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ডিএনএ’র আলামত উদ্ধার করা হয়। এদিকে, বৃষ্টির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার এলাকার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে। বিচারের পাশাপাশি দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতেই বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখনও তার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ লক্ষ্যে জোর তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, বৃষ্টির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের বিচারের পাশাপাশি দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। বৃষ্টির বোন বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে হবে, পাশাপাশি এই ঘটনার বিচার চাই।
এর আগে, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। বৃষ্টি মাদারীপুর জেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মিরপুর পল্লবীতে বসবাস করতেন। মাত্র সাত মাস আগে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় তার পরিচয় হয় আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে। গত ১৬ এপ্রিল লিমনের রুমমেটের সঙ্গে বিরোধের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে দুইজনকে অপহরণ করা হয়। এরপর টানা ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর সামনে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি।
অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন হিশাম সালেহর বিরুদ্ধে রয়েছে ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের বহু নজির। একাধিকবার আদালতে অভিযোগ দায়েরও করেছে তার পরিবার। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নতুন করে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স, মারধর, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট, মৃতদেহ সরিয়ে ফেলা ও মৃত্যুর সংবাদ পুলিশকে না জানানোসহ মোট ৬ টি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন এই মার্কিন নাগরিক। ২৬ বছর বয়সী এই তরুণ মূলত ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভুত।
জ/উ