
বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মহল থেকে অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ব্যক্তিস্বার্থে প্রভাবিত একটি দুষ্টচক্র পরিকল্পিতভাবে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।
রুমানা আফরোজ বাকেরগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক গুণাবলীর জন্য ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সংকটময় সময়ে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একজন অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে উপজেলার উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। বরং বিভিন্ন মহল থেকে তার কাজের প্রশংসা শোনা গেছে। অথচ বদলির পরপরই কিছু সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রকল্প থেকে কমিশন নেওয়ার মতো অভিযোগ প্রকাশ করা হয়, যা সংশ্লিষ্টরা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের একাংশ জানান, যদি অভিযোগ সত্য হতো, তবে তা দায়িত্ব পালনকালেই উত্থাপিত হতো। উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভা বা অন্যান্য প্রশাসনিক প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি আলোচিত হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সে ধরনের কোনো প্রমাণ বা অভিযোগ কখনো সামনে আসেনি।
রুমানা আফরোজের কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল-নিজে উপস্থিত থেকে প্রকল্প কাজ পরিদর্শন, সন্তুষ্ট হওয়ার পর বিল অনুমোদন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সরকারি সহায়তা সরাসরি জনগণের মাঝে বিতরণ। শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, তার সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় থাকায় কিছু অসাধু স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। ফলে তার বিদায়ের পরই পরিকল্পিতভাবে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা শুরু হয়।
এদিকে, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কয়েকটি গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে বাকেরগঞ্জবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রুমানা আফরোজ তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত এসব অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, কোনো ব্যক্তি তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন-এমন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে তা যাচাই করে দেখা হবে।
সচেতন মহলের অভিমত, ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে একজন সৎ কর্মকর্তার সম্মানহানি করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। তারা এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জ/দি