
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে তাদের লক্ষ্য প্রায় অর্জন করে ফেলেছে। তবে এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দেননি তিনি। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ইরানকে “স্টোন এজে” ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের উদ্বেগ, কমতে থাকা জনপ্রিয়তা এবং মিত্রদের চাপের মুখে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ধ্বংস করেছে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে। তবে যুদ্ধ শেষের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি শুধু বলেন, খুব দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ১৯ মিনিটের এই ভাষণে ট্রাম্প বলেন, সব কার্ড আমাদের হাতে, তাদের হাতে কিছুই নেই। তবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কিংবা বৈশ্বিক তেলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ হলে প্রণালিটি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে।
ভাষণের পরপরই শেয়ারবাজারে পতন, ডলারের মান বৃদ্ধি এবং তেলের দাম বাড়ার ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে- এমন আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
আরও হামলার হুমকি
ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরও জোরালো হামলা চালাবে। নতুন নেতৃত্ব সন্তোষজনকভাবে আলোচনায় না এলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকিও দেন তিনি।
ভাষণ চলাকালেই দোহা ও তেল আবিব-এ সাইরেন বেজে ওঠে, যা প্রমাণ করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান মধ্যপ্রাচ্যে হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
মিত্রদের ওপর চাপ
ট্রাম্প বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকেই হরমুজ প্রণালি খুলতে নেতৃত্ব দিতে হবে। যদিও যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হলে তারা এ বিষয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
এদিকে, ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের হুমকিও দিয়েছেন, যদিও ভাষণে সরাসরি এ বিষয়ে কিছু বলেননি।
জনমতের চাপ
রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন এবং ৬৬ শতাংশ চান দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা শেষ হোক- যদিও এতে প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না হয় তবুও।
সামরিক বিকল্প খোলা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রশাসনের ভেতরে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করা, এমনকি দেশটির উপকূলীয় অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র দখলের মতো পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এদিকে, হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয়- যুক্তরাষ্ট্র এখনো সব সামরিক বিকল্প খোলা রাখছে।
ভাষণের শেষ দিকে ট্রাম্প আমেরিকানদের এই সংঘাতকে সঠিক প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরাক, ভিয়েতনাম ও কোরিয়া যুদ্ধের মতো অতীত সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও দীর্ঘ সময় জড়িত থাকতে হয়েছিল। সূত্র: রয়টার্স
জ/উ