
শীতের মৌসুম এলেই বদলে যায় হাট–মাঠের চিত্র। ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন হাট ও আশপাশের কৃষিজমিতে এখন চোখ যত দূর যায়, সবুজ আর সবজির সমারোহ। মাঠে মাঠে বাঁধাকপি, ফুলকপি, আলু, টমেটো, শীম, পেয়াজ সহ নানান সবজির ভিড় যেমন চোখ জুড়ায়, তেমনি উৎপাদন বেশি হওয়ায় দামও নেমেছে অনেকটা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় সবজির উৎপাদন এবং সরবরাহ বেশি থাকায় সকল প্রকার সবজির মূল্য সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। কয়েক দিন ধরে শীত কিছুটা কম অনুভূত হলেও শীতের সবজির ফলন আশাতীত হয়েছে।
এলাকায় সবজির ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে শীতকালীন সবজির মূল্য কমতে শুরু করেছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার সরজমিনে ঘুরে এবং ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে - বর্তমানে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সবজির সরবরাহ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। ফরিদপুর সদর উপজেলার মমিন খার হাট বাজারে কাঁচামালের মূল্য সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক কমেছে।
মমিন খার হাটের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে - কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১০০-১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে ডায়মন্ড নতুন আলু ২৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা, শীম ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা পেঁয়াজ (দেশি) ৪০-৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। কাচা পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, দেশি টমেটো ৪০-৫০ টাকা, মূলা ২০ টাকা কেজি ও প্রতি পিছ লাউ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৭০ টাকায়। এছাড়াও গাজর ৪০ টাকা, বেগুন ২০-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লালশাক ১০ টাকা, মেথিশাক ৫-১০ টাকা, পুঁই শাক ২০ টাকা মোটা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ বাজারের খুচরা বিক্রেতা মোঃ ইমরান বেপারি জানান, এলাকায় সবজি উৎপাদন ও সরবরাহ বেশি। যে কারণে প্রতিদিন সবজির দাম হ্রাস পাচ্ছে। সরবরাহ ও আমদানি কমে গেলে সবজির বাজারদর বাড়তে পারে। এখন সবজির মূল্য সকলেরই নাগালের মধ্যে রয়েছে।
মমিন খার হাটের ব্যবসায়ী আঃ রাজ্জাক খান বলেন, এখন এলাকার উৎপাদিত সবজি বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এর পরও সবজির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই কমতির দিকে। সব শ্রেণির মানুষই এখন শীতকালীন সবজি কিনে খেতে পারছেন।
বাজারে আসা ক্রেতা সিদ্দিক শেখ জানান, এখন শীতের সবজির মূল্য নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে। আমরা চাই পুরো শীতকাল জুড়েই শীতের সবজির মূল্য এমন থাকুক।
জ/দি