আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৩ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ
সোনারগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৯ এএম

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে ৩ গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানি, খাসেরগাঁও ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষ চলতে থাকে। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র দা, বটি, টেঁটা, বল্লম, লোহার রড ও ইটপাটকেল ব্যবহার করা হয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খাসেরগাঁও গ্রামের মনির হোসেন ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মিয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের পাঁচানি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন : প্রথম নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান

সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ পাঁচানি গ্রামের বজলু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘খাসেরগাঁওয়ের মনির মেম্বার ও ছোট কোরবানপুরের রাসেল মিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। আমরা এর প্রতিবাদ করায় দুপুরে প্রায় ৩ শতাধিক লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের গ্রামে হামলা চালায়। বাড়িঘর ও দোকানপাটে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আমাদের ১০-১২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।’

তিনি জানান, হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে অনেকে মসজিদের ছাদে আশ্রয় নিলে সেখানেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে মসজিদের কাঁচ ভেঙে ফেলা হয়।

অপরদিকে ছোট কোরবানপুর গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামিদ মিয়া একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে। আমাদের বাড়িঘরে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। এখনও সে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতে চাইছে।’

আরও পড়ুন : মোংলায় নদীর তীর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

তিনি দাবি করে বলেন, ‘সকালে আমাদের ছেলেরা নদীতে গেলে হামিদ মিয়ার লোকজন তাদের মারধর করে। পরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।’

পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আমরা গত সপ্তাহে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করি। মনির মেম্বার ও রাসেল মিয়া সমাধানে রাজি হলেও হামিদ মিয়া রাজি হননি। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুরের চিহ্ন দেখেছি।’

এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ বলেন, ‘পুলিশ ও সেনাবাহিনী বর্তমানে ঘটনাস্থলে রয়েছে। প্রশাসনের লোকজন সরে গেলেই আবার হামলার চেষ্টা করছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি শান্ত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft