বাকেরগঞ্জ থানার এসআই আবুল কালামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪১ এএম

বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, থানায় সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে তিনি অর্থ ছাড়া কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেন না।

রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, গত জুলাই মাসের ৭ তারিখে আমার বাড়ি থেকে চারটি গরু রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থলে তদন্ত যায় এসআই আবুল কালাম আজাদ। পরবর্তীতে থানার তৎকালীন ওসি আবুল কালাম আজাদ গরু চুরির ঘটনা একটি মামলা এজাহার ভুক্ত করেন। মামলা গ্রহণের সময় এসআই আবুল কালাম আজাদ মামলা গ্রহণ বাবদ ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। তখন তাকে ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় মামলার তদন্তে গেলে তার দাবি অনুযায়ী ১ হাজার টাকা করে আরো ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। এরপর আসামিদের কল লিস্ট বের করার কথা বলে আবারো আমার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নেয় এসআই আবুল কালাম আজাদ। দুই মাস আগে মামলার ফাইনাল তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করার কথা বলে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তখন আমি অনেক অনুরোধ করে তাকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করি। এসআই আবুল কালাম আজাদ আসামিদের কাছ থেকে মোট অংকের টাকা গ্রহণ করে গত ২৬ নভেম্বর গরু চুরির মামলাটির ফাইনাল তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করে যে রিপোর্ট সম্পূর্ণ অসত্য। আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে রিপোর্টটি প্রদান করেছে। টাকার বিনিময় মিথ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করায় আমি ন্যায় বিচার পাইনি।

আরও পড়ুন : নারায়ণগঞ্জে ফেরি থেকে ৫ যানবাহন নদীতে, নিহত ৩

এছাড়াও দিলীপ গুরুতর অভিযোগ করেন, গরু চুরির কয়েকদিন পর ১১ ই জুলাই গভীর রাতে আমার কুটার কুড়ে আগুন দেয় গরু চুরি ঘটনার আসামিরা। যেই ঘটনায়ও বাকেরগঞ্জ থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে আমি দ্বিতীয় একটি মামলা দায়ের করি যেই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই আবুল কালাম আজাদ। ওই মামলাটিতেও তদন্তে এসে এস আই আবুল কালাম বিভিন্ন সময় তার দাবি অনুযায়ী ঘুষের টাকা নিয়েছেন। আমার এই দুইটি মামলায় এসআই আবুল কালাম আজাদকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। 

দিলীপ চন্দ্র দাসের স্ত্রী মাধবী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দুটি মামলায় এসআই আবুল কালাম আজাদ যতবার তদন্তে এসেছে ততোবারই তাকে টাকা দিতে হয়েছে। আমাদের এতগুলো টাকা নিল এবং আসামিদের কাছ থেকে মোট অংকের টাকা নিয়ে মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি দিয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হলাম। আসামিরা মামলা থেকে অব্যহতি পেয়ে এখন আমাদের বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়ে আসছে। আমাদের পরিবারের কারো জীবনের নিরাপত্তা নেই। আমরা যদি কোন দুর্ঘটনার স্বীকার হই এজন্য দায়ী থাকবে এসআই আবুল কালাম আজাদ। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানায়, আসামি গ্রেপ্তার না করা কিংবা তদন্তে প্রভাব খাটানোর জন্য এসআই আবুল কালাম নিয়মিতভাবে ঘুষ গ্রহণ করেন। কেউ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের হয়রানি করা হয় কিংবা অভিযোগ গুরুত্বহীন করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। থানায় কোন অভিযোগ দেয়া হলে তদন্তে আসলে এসআই আবুল কালাম সরাসরি টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে উল্টো আমাদেরই ভয়ভীতি দেখানো হয়।

আরও পড়ুন : তপসিয়া খাল উন্নয়নের নামে হরিলুট

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত ও এসআই আবুল কালামের  বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দিলীপ আমার বিরুদ্ধে এরকম বক্তব্য দেবে এটা আমি বুঝতে পারিনি। তাদের আরো একটি মামলা আমার কাছে এখনো তদন্ত দিন রয়েছে। টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আবুল কালাম আজাদ সাক্ষাতে কথা বলার অনুরোধ জানায়। 

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা জবাবদিহিকে জানান, এসআই আবুল কালাম আজাদকে টাকা পয়সা দেয়া হয়েছে এর কি প্রমাণ রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে এমন মৌখিক অভিযোগ অনেকেই করে থাকেন। 

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft