প্রকাশ: রোববার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৫৪ পিএম

বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেখা যায় অনেকেই বাংলাদেশের পতাকা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, সঙ্গে বিলিয়ে দেন নিখাদ দেশপ্রেম। দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা বুকে ধারণ করে ৭০ বছর বয়সেও পতাকা বিক্রি করছেন বৃদ্ধ সত্তার।
একদিন পরেই আসছে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস। বিজয়ের মাস উপলক্ষে গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজয় উল্লাসে লাল সবুজের পতাকা বিক্রির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন বৃদ্ধ ফেরিওয়ালা সত্তার ফরাজি। শিবচর উপজেলার চরসামাইল গ্রামে তার বাড়ি। বছরজুড়ে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় বাজারে, রাস্তায়, শহরের অলিতে-গলিতে, স্কুল ও কলেজের সামনে পতাকা বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। একুশে ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর ও পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন দিবসে তিনি বিক্রি করেন পতাকা।
রোববার(১৪ ডিসেম্বর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের গোমা বাজারে দেখা হয় এই ৭০ বছর বয়সী মানুষটির সঙ্গে। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই তিনি এই ৫৪ বছর পর্যন্ত পতাকা বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছেন। ছোট থেকে বড়, সব আকারের পতাকা আছে তার কাছে। বিজয় দিবসকে সামনে রেখে পতাকা কিনছেন অনেকেই।
এ সময় সত্তার ফরাজি বলেন, বছরের অন্য সময় জাতীয় পতাকা কেনার প্রতি মানুষের তেমন আগ্রহ থাকে না। ভাষার মাস, স্বাধীনতার মাস ও বিজয়ের মাসকে সামনে রেখে মানুষ জাতীয় পতাকা কেনে। এ ছাড়া বছরের বিশেষ দিনগুলো উপলক্ষে মানুষ ঘর-বাড়ি, অফিস-আদালত এমনকি যানবাহনে পতাকা লাগায়। তাই এ সময় বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি পতাকা বিক্রি হয়।
পতাকা বিক্রেতা সত্তার ফরাজির কাছে জানতে চাওয়া হয় তার সংসারে তিনি ছাড়া আর কে রয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চার মেয়ে দুই ছেলে সন্তান থাকলেও সবাই এখন বিয়ে করে সংসার করছেন। এখন স্ত্রীকে নিয়েই আমার একার সংসার। তাই জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও সংসার চালাতে হয় জাতীয় পতাকা বিক্রি করে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পতাকা বিক্রি করি। বড় আকারের একটি পতাকা ২শ থেকে ৩শ টাকা, মাঝারি আকারের পতাকা ১৫০ থেকে ২শ টাকা, ছোট আকারের পতাকা প্রকারভেদে ২০ টাকা থেকে ১শ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়াও ছোট আকারের পতাকা ১০ টাকা এবং হেড বেল্ট ও হ্যান্ড বেল্ট প্রতিটি ১০ টাকা দরে বিক্রি করেন তিনি। প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকা বিক্রি হলেও গত এক সপ্তাহ যাবত প্রতিদিন দুই হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। বিজয় দিবসের পরের দিন বরিশাল থেকে নিজ বাড়িতে ফিরবেন বলেও জানান তিনি।
জ/দি