প্রকাশ: রোববার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:১৪ পিএম আপডেট: ১৪.১২.২০২৫ ১:৫৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে নবীনগর পৌরসভার আদালতপাড়া এলাকার কালীবাড়ি মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত যুবকের নাম মো. জালাল ওরফে রাব্বি (সম্ভাব্য বয়স ২১–২৩)। তিনি শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি নবীনগর পৌরসভার মাঝিকাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন জমিদার বাড়ি সংলগ্ন বালুরচর মাঠে একটি পূর্ব বিরোধের সালিশ বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা রাব্বিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার বুকের বাম পাশে গুলি লাগে। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং লোকজন দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় এক যুবককে পিস্তল হাতে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহত রাব্বিকে উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কুমিল্লা হয়ে ঢাকায় রেফার করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি বুকের পাঁজর ভেদ করে ঢুকে গুরুতর ক্ষতি করেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চালাচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নবীনগর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক গুলিবিদ্ধ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা এখনও চোখে পড়ছে না। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জদি/দি