আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস
ডিজিটাল সহিংসতার অবসান ও নাগরিক সুরক্ষা বিষয়ক সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২৭ পিএম আপডেট: ১০.১২.২০২৫ ৮:৪০ পিএম

“সবার আগে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সহিংসতার অবসান” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকার লালমাটিয়ায় আয়োজিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস-২০২৫। 

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ইউনেস্কো। অনুষ্ঠানটি, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ১৬ দিনের কর্মসূচির পরিসমাপ্তির প্রেক্ষাপটে আয়োজন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, নারী, তরুণ ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন: জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা’ প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা আরও জরুরি হয়ে ওঠে। বর্তমানে, ডিজিটাল পরিসরে নাগরিকদের অংশগ্রহণ, ভিন্নমত, সাংবাদিকতা ও অধিকারকর্মীদের সক্রিয়তা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে, যেখানে নতুন ধরনের সহিংসতা ও দমন- -পীড়ন দেখা যাচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা আজ মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি প্রবেশদ্বার হয়ে উঠেছে। নারীদের ক্ষেত্রে অনলাইন হয়রানি, নজরদারি, হুমকি, ভুয়া তথ্য প্রচার ইত্যাদি, প্রায়ই বাস্তব জীবনে, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিতে রূপ নেয়, যা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের পরিসর, দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত করে। “বাংলাদেশে মানবাধিকার অবস্থা পর্যালোচনা: ডিজিটাল সহিংসতা রোধ এবং সাংবাদিকতার নিরাপত্তা" শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভয়েসের উপপরিচালক, মুশাররাত মাহেরা। তিনি বলেন, ডিজিটাল সহিংসতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, মর্যাদা এবং নাগরিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। তাঁর মতে, ডিজিটাল সহিংসতার অবসান কেবল ন্যায্যতার দাবি নয়; এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকার রক্ষার জন্যও অপরিহার্য।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ওপর ডিজিটাল আক্রমনের প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাগরিক উদ্যোগের নাদিরা পারভিন বলেন, “ডিজিটাল সহিংসতা আজ নারী ও প্রান্তিক কণ্ঠগুলোকে নিস্তব্ধ করতে অন্যতম কার্যকর অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে, সহিংসতা মেনে নেয়াকে স্বাভাবিক করে তোলে, যার ফলে নাগরিক পরিসর সংকুচিত হয় এবং জবাবদিহিতা দুর্বল হয়ে পড়ে।" 

প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মানবাধিকারকর্মী এবং বিশ্লেষক, মঞ্জুর রশিদ বলেন, “সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও ডিজিটাল সহিংসতা মোকাবিলাকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখতে হবে। এর জন্য আইনি সংস্কার, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং বিভিন্ন খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি, যাতে প্রযুক্তি গণতন্ত্রকে দুবর্ল না করে বরং শক্তিশালী করে। 

আরও পড়ুন: উদ্যোক্তা আমেনা বেগমের ওপর হামলা, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, “যখন সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয় এবং নারীদের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখন পুরো সমাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা আনতে হলে, ডিজিটাল সহিংসতার অবসান ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই”

নিউজরুমের বাস্তবতা তুলে ধরে উপস্থিত গণপমাধ্যম কর্মীরা বলেন, “জুলাইয়ের পর থেকে সাংবাদিকরা, মব হামলা থেকে শুরু করে সমন্বিত অনলাইন অপপ্রচারের মতো নজিরবিহীন ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এ ধরণের আক্রমণ, তাদের পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা ধ্বংস করে এবং নাগরিক পরিসর থেকে সরিয়ে দেয়।”

বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বা অপরাধের প্রতিবেদন করতে গিয়ে শারীরিক হামলা, গণপিটুনি, ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ, হুমকি ও বাধা, যত্র তত্র আটক, সাইবার ও ফৌজদারি আইনের আওতায় বিচারিক হয়রানি এবং ধারাবাহিক অনলাইন হুমকির শিকার হয়েছেন। নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঘটনা বেশি দেখা গেছে, যা অনেককে পেশাদারিতে আত্মনিয়ন্ত্রণে যেতে বা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।

অনুষ্ঠানের শেষে সমন্বিত ও অধিকারভিত্তিক উদ্যোগের জন্য যৌথ আহ্বান জানানো হয়। এতে ডিজিটাল সহিংসতাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইন সংস্কার, সাংবাদিকদের জন্য জেন্ডার সংবেদনশীল সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা জোরদার করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  অন্যান্য   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস   সভা  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft