এশিয়ায় পানি নিরাপত্তায় বড় অর্জন এখন হুমকিতে: এডিবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:২২ পিএম

এক যুগের বেশি সময়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পানি নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও পরিবেশের দ্রুত অবনতি এবং অর্থায়নের বড় ঘাটতির কারণে এই অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে।

আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ‘এশীয় পানি উন্নয়ন আউটলুক ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত ১২ বছরে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ, যা প্রায় ২.৭ বিলিয়ন লোকের সমান চরম পানি নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: জাপানে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, ১০ ফুট উচ্চতার সুনামির শঙ্কা

এডিবি প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৩ সাল থেকে নতুন রাজনৈতিক অঙ্গীকার, লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ এবং সুশাসনের সংস্কার এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। ফলে ৮৪০ মিলিয়ন মানুষ উন্নত পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি পরিষেবা পাচ্ছেন। চীনের সরকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দুর্যোগ সহনশীলতা বাড়িয়েছে। এছাড়া কম্বোডিয়া, লাওস এবং তাজিকিস্তানেও নিরাপদ পানীয় জল এবং জলবায়ু দুর্যোগ থেকে সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে, এই কঠোরভাবে অর্জিত সাফল্য এখন হুমকির মুখে।

এডিবি জানায়, জলাভূমি, নদী, জলজ স্তর এবং বন, যা দীর্ঘমেয়াদি জল নিরাপত্তার উৎস, তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ত জলের অনুপ্রবেশের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো অঞ্চলটি আরও ঝুঁকিতে ফেলছে। বিশ্বের মোট বন্যার ৪১ শতাংশ এরই মধ্যে এই অঞ্চলে ঘটে। ২০৪০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের কেবল ওয়াসা চাহিদা মেটানোর জন্য ৪ ট্রিলিয়ন প্রয়োজন, যা বছরে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন। এডিবির হিসাবে, বর্তমানে ওয়াসা অবকাঠামোতে যে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তা বার্ষিক প্রয়োজনীয় ২৫০ বিলিয়ন এর ৪০ শতাংশেরও কম। ফলে প্রতি বছর ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঘাটতি থাকছে।

এডিবির পানি ও নগর উন্নয়ন বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর নোরিও সাইতো বলেন, এশিয়া পানির গল্প দুটি বাস্তবের প্রতিচ্ছবি, পানি নিরাপত্তায় স্মারক সাফল্যের পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এই অগ্রগতিকে দুর্বল করতে পারে। পানি নিরাপত্তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।

এই প্রতিবেদন দেখায় যে, আমাদের ইকোসিস্টেমের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালীকরণ, জলের সুশাসন উন্নত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি জল সুরক্ষার জন্য, বিশেষ করে সবচেয়ে অভাবি সম্প্রদায়গুলোর জন্য উদ্ভাবনী অর্থায়ন জরুরিভাবে মোতায়েন করতে হবে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা না পড়েই লন্ডনে ইউরোপীয় নেতাদের সাথে বৈঠকে জেলেনেস্কি

এশীয় পানি উন্নয়ন আউটলুক ২০২৫-এর সুপারিশ অনুযায়ী, পানি পরিষেবাগুলো আরও কার্যকর ও টেকসই করতে, বিনিয়োগের ঘাটতি পূরণ করতে এবং সুশাসন জোরদার করতে সরকার, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন অংশীদারদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রতিবেদনের প্রধান সুপারিশগুলো হলো- প্রকৃতির সুরক্ষা, সুশাসন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  আন্তর্জাতিক   এডিবি   এশীয় পানি উন্নয়ন আউটলুক ২০২৫  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft