
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার প্রতাবী এলাকায় লক্ষীপুর–হাসিমপুর সড়কের একমাত্র সংযোগ সেতুটি গত সাত বছর ধরে কার্যত এক 'মৃত্যুফাঁদে' পরিণত হয়েছে। ১৯৯১ সালে নির্মিত এই সেতুটির মধ্যখানের পাইল দেবে যাওয়ায় এর কাঠামো ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ৮-৯টি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি পার হতে বাধ্য হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর ঢালাই খসে পড়েছে এবং কাঠামোর অংশবিশেষ দেবে গিয়ে বেঁকে গেছে। এই চরম ভগ্নদশা ছোট যানবাহন যেমন সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকদের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এই সেতুটি লক্ষীপুর, গুতগুতি, বাবনিয়া, বেতাংগি, পালগাঁও, হাসিমপুর এবং কবিরাজি-সহ প্রায় ৯টি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগ পথ। পাশাপাশি বাবনিয়া আলিম মাদ্রাসাসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে এই সেতু পার হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই সেতুর ওপর পানি উঠে গেলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও ভয় আরও বাড়ে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার ঘটনাও নিয়মিত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ভগ্নসেতুর কারণে এর আগেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। জরুরি রোগী, প্রসূতি বা কোনো বড় যানবাহন এই পথে চলাচল করতে পারে না, ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট দাবি জানিয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে যেই এমপি নির্বাচিত হোন না কেন, তার প্রথম কাজ হওয়া উচিত এই সেতুটি পুনর্নির্মাণ। আমরা নিরাপদে স্কুলে যেতে চাই।
তারা বলছেন, প্রতাবীর লক্ষীপুর–হাসিমপুর সড়কের এই সেতুটি শুধু একটি কাঠামো নয়—এটি কয়েক হাজার মানুষের জীবনরেখা। সাত বছর ধরে ঝুঁকিতে থাকা সেতুটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ এখন আর সময়ের দাবি নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।
ব্রিজ মেরামত ও স্থানীয়দের স্মারকলিপির অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, ব্রিজের দায়িত্ব এলজিইডির। বিষয়টি তাদের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বললেই সঠিক জানা যাবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এলজিইডি প্রকৌশলী প্রিতম শিকদার জয় মুঠোফোনে জানান, পুরাতন ব্রিজগুলোর তালিকা করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে ফান্ড অনুমোদন হলে মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।
নিরাপদ চলাচল ও জীবনঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয়রা অবিলম্বে সেতুটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুলাউড়া আসনের নতুন প্রতিনিধির কাছে মানবিক বিবেচনায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী। দ্রুত সেতুর সংস্কারের মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হোক—এটাই তাদের একমাত্র দাবি।