প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৯ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিরীহ ও গরীব পরিবারকে টার্গেট করে তাদের সম্পদ ভোগ দখল ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা অব্যাহত রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. কামাল হোসেন খানের বিরুদ্ধে। তার প্রাণনাশের হুমকিতে পলিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী মোটর সাইকেল ম্যাকানিক মো. মন্টু মিয়ার পরিবার। ওই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় বিগত ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা মো. কামাল হোসেন খান মোটর সাইকেল ম্যাকানিক মো. মন্টু মিয়ার দোকান রাতের আধাঁরে তালা ভেঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে। ওই সময় মন্টুর ব্যাংক চেক লুট করে নেয়। পরবর্তীতে লুট করে নেয়া ব্যাংক চেক দিয়ে মন্টু ও তার স্ত্রী শাবানার বিরুদ্ধেই দুইটি ভূঁয়া চেকের মামলা দিয়ে হয়রানি করা অব্যাহত রেখেছে। এর আগে কামালের আত্মীয় আব্দুস সালাম দেড় বছর পর টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে মন্টু মিয়ার কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা নিয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও ওই টাকা আর দেয়নি। ওই সময় স্বাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কামাল হোসেন খান ও তারা মিয়া। তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় তার উভয়ে মন্টু মিয়া ও তার স্ত্রীর উপর জুলুম শুরু করে ও বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা মো. কামাল হোসেন খানের প্ররোচনায় মোহাম্মদপুর থানার এসআই ফারুক মো. মন্টুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিহারী ক্যাম্প সংলগ্ন টাউন হল মার্কেটে থাকা তাদের মন্টু মোটর সাইকেল ওয়ার্ক শপ নামের গ্যারেজটি ছেড়ে দিতে বলে এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে মন্টুর স্ত্রীকে কামাল কু-প্রস্তাব দিয়ে বলে তাহলে ওই গ্যারেজটি তোমাদের দিয়ে দেবো। পরে ৫ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে তৎকালীন ওসি আব্দুল লতিফের সহযোগিতায় কামাল গ্যারেজের তালা ভেঙ্গে দোকানে থাকা তিল লাখ টাকার মালামালসহ মূল্যবান কাগজপত্র ও ব্যাংকের চেক লুট করে নিয়ে যায়। এর পর থেকে কামাল হোসেন অবৈধভাবে ওই গ্যারেজটি ভোগ দখল করে আসছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় তিনিটি অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং একই বছর ১২ জুন রাতে স্থানীয় তিন রাস্তার মোড়ের কালভার্টের সামনে মন্টুর স্ত্রী শাবানাকে তিন শিশু বাচ্চাসহ একা পেয়ে কামাল হোসেন, হাজী সালাউদ্দিন ও তারা মিয়া ব্যাপক গালিগালাজ করে ও মারতে যায়। এ সময় শাবানার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পলিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে আদালতে লুট করা চেকের পাতা দিয়ে দুইটি ভুয়া মামলা করে (সিআর মামলা নং- ২৬৪৩০/২২ এবং সিআর মামলা নং- ২৬৪৩১/২২)। ৪ লাখ টাকা লোন নেয়ার পর সেই টাকা চাইতে গিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
এদিকে আরও জানা যায়, গত ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর মো. কামাল হোসেনের আত্মীয় মো. আব্দুস সালাম ব্যবসায়ী প্রয়োজনের কথা বলে মো. মন্টু মিয়ার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা লোন নেয়। এ সময় তাদের মধ্যে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে একটি চুক্তিপত্র করা হয় এবং ওই টাকা ফেরত দিতে দেড় বছর সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই চুক্তিপত্র করে টাকা গ্রহণের সময় সালামের পক্ষে স্বাক্ষী ছিলেন মো. কামাল হোসেন ও তারা মিয়া। মন্টু মিয়ার কাছ থেকে লোন নেয়া ৪ লাখ টাকা এককালীন পরিশোধের কথা থাকলেও দীর্ঘ দিনেও তা পরিশোধ করেনি বরং টাকা চাইতে গেলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। তাছাড়াও থানা পুলিশকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে বিভিন্ন সময় পুলিশ এসে কামালের কাছে কোনো টাকা চাইলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দিতে থাকে। তাদের হুমকিতে মন্টু পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াতেও বাধ্য হয়েছিল।
অভিযোগ অস্বীকার করে মো. কামাল হোসেন খান জানান, তারা আমার দোকানের ভাড়াটিয়া ছিল। আমি আমার দোকানের দখল নিয়েছি, লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। তারা একাধিক স্থানে অভিযোগ দিলেও তারা সত্যতা পায়নি। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আর যে ব্যক্তিকে ৪ লাখ টাকা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দিয়েছিল সেটার স্বাক্ষী আমি হলেও ওই লোককে আমি চিনি না বলে জানান তিনি।