প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:০২ পিএম

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অসাধু কর্মকর্তা ও মিরপুর শাখার অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজারের যোগসাজশে মিরপুরের রুপনগর আবাসিক এলাকার ১৩ নম্বর রোডের ২৬ নম্বর বাড়িটি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আর এতে সহযোগিতা করেছে রুপনগর থানার সাবেক ওসি মোকাম্মেল হক। ওই বাড়ি নিয়ে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় উল্লেখিতদের প্ররোচনায় গত ২৭ এপ্রিল গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাইবুর রহমান আশিক বাড়িটি বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে ভেঙে দেয় বলে ভুক্তভোগী বাড়ি মালিক অভিযোগ করেছেন।
জানা যায়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই বাড়ির জন্য অগ্রণী ব্যাংকের মিরপুর শাখায় ৬৫ লাখ টাকা জমা দেয়া হয়। কিন্তু গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অসাধু কর্মকর্তা ও ব্যাংক ম্যানেজারের যোগসাজশে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানে দুই তলা বিশিষ্ট বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়া হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সকল আসবাবপত্র ও দৈনন্দিন পোশাক-পরিচ্ছদ সহ সকল মালামাল ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বিনিময়ে স্পট নিলামের মাধ্যমে টুটুল নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। তারা রাষ্ট্রায়ত্ত¡ ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক মিরপুর শাখায় প্লটের ব্যাংক ঋণ বাবদ ৬৫ লক্ষ টাকা প্রদান কারেছে এবং এই প্লটের মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান থাকাবস্থায় বেআইনিভাবে তাদের বসবাসের বাড়িটি ভেঙে দেয়া হয়। পরবর্তীতে সুষ্ঠু বিচার পেতে ভুক্তভোগী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এ.কে.এম লিয়াকত হোসেনের কাছে ভুয়া নামজারি ও রেজিস্ট্রি প্রত্যাহারের জন্য লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে (স্মারক নং- ২৫.০০.০০০০.০৫৩.০৩১.০০৫.২০২৫) জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিলেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফাইলটি এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে স্থানান্তর ছাড়া প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গেলে রুপনগর এলাকাবাসীরা জানান, এই প্লটের বিষয়ে কোর্টে মামলা চলমান থাকাবস্থায় বাড়িটি ভেঙে দেয়া হয়। যা আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র এবং বাড়িটির বর্তমান মূল্য ৬ কোটি টাকার মতো হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা সম্পূর্ণই ভেঙে পড়েছেন এবং বাড়িহারা হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী মো. ইয়াসিন বেগ জানান, এই জমি বাবদ টাকা অগ্রণী ব্যাংক মিরপুর ১ শাখার সাবেক ম্যানেজার ফজলুল হকের কথামতো ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও দলিল আটকে রাখেন। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষে বিধি মোতাবেক সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ১৯৯৯ সালে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা। কিন্তু দুর্নীতির মাধ্যমে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক এ. কে.এম সেলিম নেওয়াজ আবারো নামজারি করেন।
ইয়াসিন বেগ আরও জানান, সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রতিনিয়ত কোর্ট-কাচারি ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। নিয়ম মেনে ব্যাংকের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার পরও আমরা বসবাস করা অবস্থায় বাড়ি হারিয়েছি এবং হেনস্থার শিকার হচ্ছি। এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (চেয়ারম্যান) দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুয়া রেজিস্ট্রি বাতিল করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রকৃত মালিকের কাছে বাড়িটি হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।