চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা আমাদের জীবনে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। ভ্রমণের শুরু থেকেই একদিকে ছিল কনফারেন্সে অংশগ্রহণের উত্তেজনা, অন্যদিকে ছিল নতুন দেশে প্রবেশের নানা প্রস্তুতি আর চ্যালেঞ্জ। এটি কেবল একটি ফ্লাইট টিকিট আর পাসপোর্ট হাতে দেশ ছাড়ার ঘটনা নয়—বরং ছিল উদ্দীপনা, গর্ব এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরার এক বড় প্রস্তুতি। ঢাকা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়িয়ে যখন পাশের সহযাত্রীদের মুখে উত্তেজনার ঝিলিক দেখলাম, তখনই মনে হলো—আমরা কেবল ভ্রমণে নয়, বিশ্ব দরবারে যাচ্ছি।
১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠিত, জেনেভা-ভিত্তিক এফডিআই ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল ফেডারেশন হল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন এবং পেশাদারদের প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্বব্যাপী দশ লক্ষেরও বেশি দন্তচিকিৎসকের প্রতিনিধিত্বকারী ১৪৮ সদস্য সংগঠনের সাথে, এই সংস্থাটি প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে এফডিআই ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল কংগ্রেস আয়োজন করে।
প্রায় দুই দশক পর, চীনের মূল ভূখণ্ডে এফডিআই ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল কংগ্রেস (এফডিআইডব্লিউডিসি) ফিরে এসেছে। এই অনুষ্ঠানটি ৯-১২ সেপ্টেম্বর সাংহাইয়ের জাতীয় প্রদর্শনী ও কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এফডিআই ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল ফেডারেশন, চাইনিজ স্টোমাটোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং রিড সিনোফার্ম এক্সিবিশনস-এর সহ-আয়োজনে, এই বছরের অনুষ্ঠানটি এফডিআই-এর ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইভেন্টগুলির মধ্যে একটিতে পরিণত হচ্ছে। যেখানে চার দিনে ৭০০ টিরও বেশি ডেন্টাল কোম্পানি, ১৯১টি ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন এবং ৩৫,০০০ এরও বেশি দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করবেন - এবং ৬০,০০০ বর্গমিটার জুড়ে অবস্থিত।
এই উল্লেখযোগ্য স্কেল চীনের ডেন্টাল বাজারের গতিশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী দশ লক্ষেরও বেশি দন্তচিকিৎসকের প্রতিনিধিত্বকারী এফডিআই-এর সত্যিকারের আন্তর্জাতিক নাগালের ওপর জোর দেয়।
অংশগ্রহণকারীরা ৩০০ টিরও বেশি বিশ্বমানের বক্তাদের কাছ থেকে অন্তর্দৃষ্টি এবং গুরুত্বপূর্ণ দাঁতের বিষয়গুলির উপর ইন্টারেক্টিভ ফোরামের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রোগ্রামের প্রত্যাশা পুরন করেছে। ইতোমধ্যে, FDI WDC ২০২৫ প্রদর্শনী ঋউও ইতিহাসের বৃহত্তম, যেখানে ৬০,০০০ বর্গমিটার জুড়ে ৭০০ জন নির্বাচিত প্রদর্শক উপস্থিত থেকেছেন। হ্যালিয়ন, লিস্টারিন, FDI এবং কোলগেটের মতো শীর্ষস্থানীয় বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডগুলি, শত শত চীনা নির্মাতা এবং প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সাথে, সবচেয়ে উন্নত দাঁতের সরঞ্জাম এবং সমাধান প্রদর্শন করেছে। প্রদর্শনীতে হাসপাতাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য, অও-চালিত ডায়াগনস্টিকস, ডিজিটাল দন্তচিকিৎসা এবং ৩উ প্রিন্টিংয়ে উদ্ভাবন, অংশগ্রহণকারীদের অত্যাধুনিক সমাধান প্রদানের উপরও আলোকপাত করা হয়েছে।
এছাড়াও, কংগ্রেস গবেষক, চিকিৎসক, শিল্প বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য ডিজাইন করা গাইডেড ট্যুরের মাধ্যমে ব্যতিক্রমী নেটওয়ার্কিং সুযোগের প্রতিশ্রুতি দেয়, যা বিশ্বব্যাপী মৌখিক স্বাস্থ্যকে এগিয়ে নিতে পারে এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে।
মনে রাখার মতো একটি সামাজিক অনুষ্ঠান: FDI ২৫ এর সাথে থাকা সামাজিক অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের একটি অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ১০ সেপ্টেম্বর গালা ডিনার অতিথিদের লাইভ পারফর্মেন্স, আঞ্চলিক খাবার এবং সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য উদযাপনের একটি সন্ধ্যার মাধ্যমে চীনা ঐতিহ্যে ডুবে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। ১১ সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত সাংহাই নাইটটি আইকনিক বুন্ড বরাবর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাইভ সঙ্গীত, হস্তনির্মিত ককটেল এবং সাংহাইয়ের গতিশীল আকাশরেখার অত্যাশ্চর্য দৃশ্যের একটি স্মরণীয় সন্ধ্যা উপস্থাপন করেছে। এই অনুষ্ঠানগুলি শহরের প্রাণবন্ত পূর্ব-পশ্চিমের সাথে মিলিত আকর্ষণ এবং সাংস্কৃতিক সারাংশকে নিখুঁতভাবে ধারণ করে।
বিশ্বব্যাপী মৌখিক স্বাস্থ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া : এফডিআই ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল কংগ্রেস বিশ্বব্যাপী মৌখিক স্বাস্থ্যের অগ্রগতির জন্য মানদণ্ড স্থাপন করে চলেছে। দন্তচিকিৎসার বিভিন্ন পেশার নেতাদের একত্রিত করে, FDI ২৫ দন্তচিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনগুলি প্রদর্শন করবে, গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করবে এবং বিশ্বজুড়ে মৌখিক যত্ন উন্নত করার জন্য বৃহত্তর সহযোগিতা গড়ে তুলবে।
আমাদের ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল এফডিআই ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল কংগ্রেসে অংশগ্রহণ। এটি দন্ত চিকিৎসাবিদ্যার অন্যতম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। প্রথম দিন সকালে আমরা পৌঁছে গেলাম National Exhibition & Convention Center (NECC), No. 333 Songze Avenue, Qingpu District, Shanghai, China–G। বিশাল ভবনের ভেতরে ঢুকতেই মনে হলো এ যেন এক জ্ঞানের মেলা! বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে আগত চিকিৎসক, গবেষক আর শিক্ষকেরা সবাই জড়ো হয়েছেন একই উদ্দেশ্যে—দন্তচিকিৎসার ভবিষ্যৎকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা কমিউনিটি-ভিত্তিক ওরাল হেলথ কেয়ার এবং প্রাকৃতিক হার্বাল মাউথরিন্সের কার্যকারিতা নিয়ে পোস্টার উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত সবার কাছেই প্রশংসিত হয়।
এই কংগ্রেস শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকদের সাথে নেটওয়ার্কিং-এর অসাধারণ সুযোগও করে দেয়।
প্রস্তুতির গল্প: চীনে যাওয়ার জন্য প্রথমেই আমাদের হাতের নাগালে রাখতে হয়েছিল কিছু অপরিহার্য কাগজপত্র ভ্যালিড পাসপোর্ট, ভিসা, ইনভাইটেশন লেটার, প্লেনের টিকিট (চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স), হোটেল বুকিং লেটার এবং সর্বনিম্ন ১০০০ মার্কিন ডলার এনডোর্সমেন্ট । সাথে অতিরিক্ত কিছু ডলার ও ৫০০ আরএমবি রাখা সুবিধাজনক ছিল। চীনে যোগাযোগের জন্য মোবাইলে উইচ্যাট, আলিপে ও ট্রান্সলেটর অ্যাপ ইনস্টল করেছিলাম। WeChat: যোগাযোগ, ট্যাক্সি ডাকা, এমনকি পেমেন্টেও কাজে লাগে। Alipay: স্থানীয় পেমেন্টের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। Maps (Baidu/Offline Maps): কারণ Google Maps অনেক সময় কাজ করে না। কারণ ওখানকার মানুষ ইংরেজি বলতে মোটেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। সিমের জন্য ইন্টারন্যাশনাল রোমিং চালু করা বা এয়ারপোর্ট থেকে ভিপিএন যুক্ত সিম কেনা জরুরি। VPN সাপোর্টেড সিম কিনুন বা ইন্টারন্যাশনাল রোমিং চালু রাখুন, কারণ ফেসবুক/গুগল/ হোয়াটসঅ্যাপ চীনে সরাসরি চলে না। ট্রান্সলেটর অ্যাপ (Google Translate / Baidu Translate) অপরিহার্য। প্রায় ২৫০ আরএমবি খরচে এমন সিম পাওয়া যায়। শহরে চলাফেরার জন্য মেট্রো রেলের কার্ড সংগ্রহ করাও দারুণ সুবিধাজনক। মেট্রো কার্ড সংগ্রহ করুন, শহরে চলাফেরার সবচেয়ে সস্তা ও সুবিধাজনক মাধ্যম। দীর্ঘ ভ্রমণে হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন ব্যবহার করুন আরামদায়ক ও সময় বাঁচে। এয়ারপোর্ট থেকে শহরে আসতে আগে থেকেই রুট ও সময় জেনে নিন। এই সকল কাজের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ভিসা ক্রেডিট কার্ড প্রয়োজন, যেখানে ডলার ইনডোর্সমেন্ট করা আছে।এই কার্ডে যদি প্রায়োরিটি পাস থাকে তবে এয়ারপোর্টে ভিআইপি লাউজ ব্যবহার করে খাওয়া-দাওয়া করতে পারবেন বিনা পয়সায়।
চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে বড় ব্যাগ ২৩ কেজি পর্যন্ত নেয়া যায়, সাথে ৭ কেজির একটি হ্যান্ড লাগেজ। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চাকরির ধরন অনুযায়ী সরকারি অনুমোদন। সরকারি চাকরিজীবীরা দেশের বাইরে যেতে হলে জিও নিতে বাধ্যতামূলক, আর স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আছে অনলাইন NOC। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে এগুলো অনলাইনে চেক করা হয়।
হালাল খাবারের জন্য আগে থেকেই হালাল রেস্টুরেন্টের ঠিকানা সংগ্রহ করুন ÒGanga RestaurantÓ Madina RestaurantÓ). নিজের সঙ্গে শুকনো খাবার (বিস্কুট, নুডলস, বাদাম) রাখলে উপকারে আসে। গুয়াংজু শপিং স্বর্গ—কাপড়ের জন্য বাইমা মার্কেট, খেলনার জন্য অনলিঙ্ক মার্কেট, ইলেকট্রনিক্সের জন্য দাস হা তাও মার্কেট। দরদাম না করে কিছু কিনবেন না প্রথমে বিক্রেতা যে দাম বলবে, তার প্রায় অর্ধেক থেকে দর শুরু করুন। ব্র্যান্ডেড বা অথেন্টিক জিনিস কিনতে অফিসিয়াল স্টোরে যান। কানেক্টিং ফ্লাইট নিলে অন্তত ৩ ঘণ্টার ট্রানজিট টাইম রাখুন। পাবলিক টয়লেটে সাধারণত হ্যান্ড শাওয়ার থাকে না, তাই টিস্যু সাথে রাখুন। ভিড় এড়াতে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো সকালেই ভিজিট করুন। পাওয়ার ব্যাংক কিনলে অবশ্যই সার্টিফাইড লোগো যুক্ত নিন, নইলে এয়ারপোর্টে আটকাবে।
বিএনপির আরও ২১ নেতা বহিস্কার
ঢাকা থেকে সাংহাই: সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আমরা চায়না সাউদার্নের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হলাম। প্রথমে গুয়াংজু হয়ে সাংহাই পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু গুয়াংজুতে মাত্র দুই ঘণ্টার বিরতিতে কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে গিয়ে বড় বিপদে পড়লাম এয়ারপোর্ট বিশাল, টার্মিনাল খুঁজে পেতে গিয়ে সময় ফুরিয়ে গেল, শেষ পর্যন্ত ফ্লাইট মিস! তখনই বুঝলাম, চীনে কানেক্টিং ফ্লাইট বুক করতে হলে অন্তত তিন ঘণ্টার বিরতি রাখা চাই।
সাংহাই পৌঁছে আমাদের জন্য গাইড ও গাড়ি প্রস্তুত ছিল। আমরা উঠলাম ডেইজ হোটেল (৬১ লেন ওয়াইজিয়ান রোড, বাউসহান ডিস্ট্রিক্ট)-এ। সেখান থেকে আমরা ঘুরে দেখলাম ইউয়ান গার্ডেন, ঝিকঝাক ব্রিজ, গুচেং পার্ক, গোল্ডেন ফিশ পন্ড, পিপলস স্কয়ার, নাঞ্জিং রোড, টিভি টাওয়ার, হু আংপু রিভার ক্রুজ, জাদি বৌদ্ধ মন্দির আর জু জিয়া জিও ওয়াটার ভিলেজ।
সাংহাই থেকে বেইজিং: সাংহাই ওয়াংচো থেকে আমরা হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনে বেইজিং যাত্রা করি। ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলা ট্রেনের ভেতরে বসে জানালার বাইরের দৃশ্য যেন সিনেমার মতো লাগছিল।
বেইজিং-এ আমরা থাকলাম হলিডে ইন এক্সপ্রেস হোটেল (৩৫ নানচিং রোড, সুংই ডিস্ট্রিক্ট)-এ। হোটেলেই বেশিরভাগ সময় খাবার খেয়েছি। তবে যাঁরা হালাল খাবার চান, তাঁদের জন্য আছে গঙ্গা রেস্টুরেন্ট (+৮৬১৮৮১১৫২৭৭২৩), যেখানে বাংলা ও ইন্ডিয়ান খাবার পাওয়া যায়। বেইজিং ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ—তিয়েনআনমেন স্কয়ার, ফরবিডেন সিটি, মহাপ্রাচীর (যেখানে আমরা কেবল কারে উঠানামা করেছি), বার্ড নেস্ট স্টেডিয়াম আর ওয়াটার কিউব যেন একেকটি নতুন দুনিয়া।
বেইজিং থেকে গুয়াংজু: প্রায় সাত ঘণ্টার বুলেট ট্রেন যাত্রা শেষে আমরা পৌঁছালাম গুয়াংজুতে। উঠলাম ডেইজ হোটেল (৮৮ ইয়ানজিয়াও রোড, বাই ইয়ান ডিস্ট্রিক্ট)-এ।
এখানকার খাবারের অভিজ্ঞতা বেশ ভিন্ন। আশেপাশের শপিং মলে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট রেটে বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায়, যা কিনে নিয়ে হোটেলের ওভেনে গরম করে খাওয়া যায়। হালাল খাবারের জন্য আমরা আল মদিনা হোটেল (Yuexiu dist. Guangyan west road)-এ গিয়েছিলাম, যা রুইফেং হোটেলের পাশে।
গুয়াংজুতে আমরা ঘুরেছি কিণ্ডো ফ্যাশন মার্কেট, লেদার মার্কেট, বাইমা মার্কেট (কাপড়ের জন্য বিখ্যাত), দাস হা তাও মার্কেট (সেকেন্ড হ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স) আর অনলিঙ্ক মার্কেট (খেলনা সামগ্রী)।
গুয়াংজু এয়ারপোর্ট শহর থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে। আমাদের গেট নম্বর ছিল ১৪৭। ফ্লাইট ধরতে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানো জরুরি। ইমিগ্রেশন শেষে শপিং করার সুযোগ আছে। তবে পাওয়ার ব্যাংক, লাইটার বা স্প্রে বহন করা উচিত নয়। শুধুমাত্র অথেন্টিক লোগো যুক্ত পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করা নিরাপদ।
বিএনপির আরও ২১ নেতা বহিস্কার
এই ভ্রমণ আমাদের শিখিয়েছে
১.জ্ঞান শুধু কনফারেন্সে নয়, পথেও থাকে
২. ভাষা না বুঝলেও সম্মান বোঝে মানুষ
৩. গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের গলা উঁচু হচ্ছে
সাংহাইয়ের আলো, বেইজিংয়ের ইট, গুয়াংজুর বাজার সব মিলিয়ে চীন আমাদের মনের ভেতর এঁকে গেছে এক অবিনাশী চিত্র।
এফডিআই কংগ্রেসে অংশ নেয়া মানে শুধু শেখা নয় বরং বিশ্বমাঝে দাঁড়িয়ে বলা।
উপসংহারে চীনের এই ভ্রমণ শুধু একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগই দেয়নি, আমাদেরকে এক নতুন সংস্কৃতি, প্রযুক্তি আর জীবনধারার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। সাংহাইয়ের ঝলমলে নগরী, বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক সৌধ আর গুয়াংজুর ব্যস্ত মার্কেট সব মিলিয়ে ভ্রমণটি হয়ে উঠেছিল রঙিন, শিক্ষণীয় আর অমলিন এক স্মৃতি।