প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৫৩ পিএম আপডেট: ০৭.১০.২০২৫ ৯:৪৯ পিএম

বরিশালের বাকেরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ-১ জোনাল অফিসের ভুতুরে বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাকেরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১- এর গ্রাহকরা। দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ বিলের কাগজে হিসাব মিলছে না অধিকাংশ গ্রাহকের।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি বিলে অতিরিক্ত টাকা যোগ করে দেয়া হয়েছে। বার বার বললেও মিলছে না প্রতিকার, বরং বাড়ছেই বিল। মিটার না দেখেই অফিসে বসেই বিল তৈরি করছে বাকেরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্মীরা।
পল্লী বিদ্যুত অফিসের ভুতুড়ে বিলের প্রতিবাদের আজ ৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বেলা ১ টায় গ্রাহকরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত নারী পুরুষ পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, প্রত্যেকটি বিলেই অতিরিক্ত ৮০ থেকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বেশি যোগ করা হয়েছে। বিল নিয়ে অফিসে ঘোরার পরও কোনো সমাধান দিতে পারছেন না সমিতির লোকজন। পরবর্তী মাসে সমন্বয় করে দেয়ার আশ্বাস দিলেও তা শুধু কথাতেই সীমাবদ্ধ। পরের বার গেলে বরং অফিসের লোকজন দুর্ব্যবহার করেন।
দক্ষিণ বালি গ্রামের গ্রাহক নাসির উদ্দিন হাওলাদার দৈনিক জবাবদিহিকে জানান, প্রতি মাসে আমার ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বিল আসে। এই মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১৫ হাজার ৬ শত ৩৪ টাকা। বিল কাগজ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে আসলে কর্তৃপক্ষ পুনরায় সঠিকভাবে বিদ্যুৎ বিল করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। যে কারণে বাধ্য হয়ে আমরা আজকের এলাকার সবাই মিলে বিদ্যুৎ অফিস এসেছি।
গ্রাহকদের অভিযোগ, রিডাররা বেশিরভাগ সময় নিজেদের খেয়ালখুশি মতো বিল তৈরি করেন। বিশেষ করে গত দুই মাসে তারা বেশিরভাগ গ্রাহককে রিডিংয়ের চেয়ে বেশি বিল তৈরি করেছেন মিটার না দেখেই। আর এ কারণে এখন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন গ্রামের সহজ সরল মানুষ। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, দিনের পর দিন বিদ্যুৎ অফিসে হেঁটেও সমস্যার সমাধান মেলে না।
পরবর্তীতে বাকেরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মাজহারুল ইসলাম গ্রাহকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত করেন।