প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:০৯ পিএম

মাদারীপুরের কালকিনিতে ক্ষমতার জানান দিতে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠি হাতে শোভাযাত্রা ও পথসভা করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) কালকিনি পৌরসভা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এ ধরনের মহড়া বেআইনী বলছে প্রশাসন। বিষয়টি নজরে আসায় অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে খুঁজতে শুরু করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে পুরো মাদারীপুর জুড়ে।
গতকাল শুক্রবার রাতে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।
জানা যায়, গত ২ অক্টোবর মেজর(অব:)রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি বিএনপির ব্যানারে মাদারীপুর-৩ আসনের বিভিন্নস্থানে শোভাযাত্রা ও পথসভা করেন। বিএনপির কোন পদধারী না হলেও মূলত এলাকায় নিজের পরিচিতি লাভের জন্য তিনি এ কর্মসূচি করেন।
এদিকে পথসভায় জনসম্মুক্ষে অস্ত্রের প্রদর্শনকৃত বেশ কয়েকটি ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।ছবিতে দেখা যায়,রেজাউল করিমের সাথে থাকা দুজন কালো পোশাকধারী লোক একটি পিস্তল ও একটি শর্টগান প্রকাশ্যে বের করে রেখেছেন। তাছাড়া রেজাউল করিমের সঙ্গে থাকা তার ভাতিজা আরিফ হোসেন ওরফে বাবু বেপারীর হাতেও একটি পিস্তল দেখা যায়। ছবিগুলো নিয়ে মাদারীপুর জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। জনগন বলছে জনপ্রতিনিধি হতে এসে এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে জনমনে ভীতি সঞ্চার করাটা তার ঠিক হয়নি। যেহেতু সে বিএনপির ব্যানারে পথসভা করেছে সেহেতু তার এমন কাজের জন্য বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। অনেকেই আবার আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে থাকা রেজাউল করিমের ছবিগুলো কমেন্ট করে তাকে বিগত দিনে আওয়ামীলীগের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
এদিকে উপজেলা বিএনপির নেতারা বলছেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে কিছু অনুপ্রবেশকারী এসব কর্মকান্ড করছে। বিএনপির সাথে এদের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
এ ব্যাপারে রেজাউল করিমের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর হতে তার ব্যক্তিগত (০১৭১২১৮৭৯৯১) নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "কোন পথসভা বা জনসভায় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করার নিয়ম নেই। যদি কেউ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা ভেবে অস্ত্র বহন করেন তবে যার নামে অস্ত্রের লাইসেন্স শুধুমাত্র তার কাছেই অস্ত্র থাকার কথা। একজনের অস্ত্র আরেকজন বহন করতে পারেন না।"