প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ৩:৪০ পিএম আপডেট: ২১.০৮.২০২৫ ৪:৩৩ পিএম

জুলাই গণ অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারের নেওয়া আগের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে বিধিমালা জারি করা হয়েছে। শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন নীতিমালা ২০২৫’ শীর্ষক এ বিধিমালায় নিহতদের পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা সমমূল্যের জাতীয় সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া আহতদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে এককালীন ৫ লাখ, ৩ লাখ ও ১ লাখ টাকা এবং মাসিক ২০, ১৫ ও ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার বিধান রাখা রয়েছে। এসব অনুদান ও ভাতা গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে গত সোমবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিধিমালার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের যে তালিকা সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে তাতে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮১১ জন।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, ”জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের স্বামী বা স্ত্রী, ঔরসজাত বা গর্ভজাত সন্তান এবং মা ও বাবার মধ্যে সমান তিনভাগে বন্টন করতে হবে। সে হিসেবে জুলাই শহীদের স্বামী বা স্ত্রী আর্থিক সহায়তায় এক তৃতীয়াংশ, সন্তান এক তৃতীয়াংশ এবং মা-বাবা এক তৃতীয়াংশ পাবেন।
”জুলাই শহীদের একাধিক স্ত্রী/স্বামী, একাধিক সন্তান থাকলে তাদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। আবার মা-বাবার জন্য বরাদ্দ হওয়া অংশ সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। বাবা অথবা মায়ের কেউ একজনের অবর্তমানে ওই অর্থ একজন পাবেন।”
অপরদিকে বিধিমালায় অনুদানের অর্থ ভাগ করে দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, “শহীদের স্বামী/স্ত্রী না থাকলে ওই অংশ তার পরিবারের বাকি সদস্যদের মধ্যে সমান ভাগ করে দিতে হবে। শহীদের কোনো সন্তান না থাকলে তার অংশও বাকি সদস্যদের মধ্যে ভাগ করতে হবে।“
বিধিমালায় বলা হয়েছে, ”জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ব্যক্তি অবিবাহিত হলে তার অনুকূলে বরাদ্দ ভাতা মা-বাবা পাবেন অথবা কোনো একজনের অবর্তমানে অপরজন সম্পূর্ণ পাবেন। ভাতা পাচ্ছেন শহীদ পরিবারের এমন কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে তার অংশের ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। এই অংশ শহীদ পরিবারের অন্য কেউ দাবি করতে পারবেন না। আবার শহীদের স্ত্রী বা স্বামী অন্য কাউকে বিয়ে করলে তার অংশের ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে।”
চিকিৎসা সেবার বিষয়ে বিধিমালা বলা হয়েছে, “সব সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, সরকারি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং এজন্য নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা পাবেন। এজন্য কোনো লিখিত আবেদনের প্রয়োজন হবে না। তবে এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হেলথ কার্ড দেখাতে হবে।”
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্রদের আন্দোলন শেষমেশ সরকার উৎখাতের ইতিহাস গড়ে। সেই আন্দোলনে ৫ অগাস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাড়ে ১৫ বছর দেশ চালিয়ে আসা শেখ হাসিনা।
আন্দোলনে রক্তপাত শুরু হওয়ার ২০ দিনের মধ্যেই লাশ আর রক্তের বোঝা মাথায় নিয়ে পতন হয় দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের।
জ/উ