
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর ১০ লাখ শিক্ষার্থী অনার্স পাস করেন। তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ অর্থাৎ, ৪ লাখ গ্র্যাজুয়েটই বেকার থাকেন। বাকি ৬ লাখের মধ্যে ৪ লাখ গ্র্যাজুয়েট সরকারি-বেসরকারি চাকরি করেন। দুই লাখ গ্র্যাজুয়েট নিজের উদ্ভাবিত কোনো কর্মসংস্থান থেকে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও দেশে ডিগ্রি পাস (পাস কোর্স) শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর ১১ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেকার বলেও জানন তিনি।
শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীতে এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ল্যাব, ডেমোনেস্ট্রেটর, শিক্ষক, অধ্যক্ষ সবই থাকা সত্ত্বেও ল্যাব প্রাকটিক্যাল হচ্ছে না। এটা শুধু নৈতিক অবক্ষয়ের অবনমন। এর উত্তরণ ঘটাতে হবে।
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক প্রেরণ নিরুৎসাহিত করতে হবে, তাদের দক্ষ শ্রমিক করতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় সেরা শিক্ষক সম্মাননা ব্যক্তিগত যোগাযোগ রক্ষাকারীকে না দিয়ে প্রকৃতই সেরা শিক্ষককে দেওয়ার সুপারিশ করেন উপাচার্য।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, বিগত ৫২ বছরে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রের কোনও গুণগত উন্নতি হয়নি। আমরা বাংলাদেশে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতেও ব্যর্থ হয়েছি।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার অবস্থাও একসময় বাংলাদেশের মতোই ছিল। কিন্তু চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণ করায় আজ তাদের মাথাপিছু আয় বহুগুণ বেড়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় সিলেবাস সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, গুণগত শিক্ষার অভাবই শিক্ষার সবচেয়ে বড় সমস্যা। প্রতি বছর এসএসসিতে ২.৫ লাখ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও বাস্তব শিক্ষার উন্নতি হচ্ছে না। প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়, কিন্তু যারা জিপিএ-৫ পায় না, তারা কোথায় যাচ্ছে- এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
প্রবন্ধে বলা হয়, প্রতি বছর এসএসসিতে ২.৫ লাখ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও বাস্তবে মানসম্মত শিক্ষা হচ্ছে না।
ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে সহায়ক ভূমিকা রাখলেও মূল দায়িত্ব পালন করেছে চীন, রাশিয়া ও জাপানের প্রকৌশলীরা। অথচ স্থানীয় প্রকৌশলীরা দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছে। মূল সমস্যা হলো চাহিদাভিত্তিক শিক্ষার অভাব।
ড. কামরুল বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও রূপপুর প্রকল্পে সহায়তা করলেও মূল দায়িত্ব পালন করেছে বিদেশিরা। অথচ স্থানীয় প্রকৌশলীরা দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। আসল সমস্যা হলো চাহিদাভিত্তিক শিক্ষার অভাব।’
জ/উ