শাহীন অপহরণ-হত্যায় জড়িতদের শাস্তি ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩৯ পিএম

রাজধানীর কোতয়ালি থানা এলাকায় ব্যবসায়ী শাহীনকে অপহরণ করে তাকে দিনের পর দিন না খেতে দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে। শেষ মূহুর্তে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রেনে করে কমলাপুর রেল স্টেশনের ১৪ নম্বর প্লাটফর্মে ফেলে রেখে গেছে ঘটনায় জড়িতরা। এ ঘটনায় প্রথমে একটি জিডি ও একটি অপহরণ মামলা করা হয়। ওই জিডি ও মামলার তদন্তে কোতয়ালি থানা পুলিশ ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে শাহীনের মৃত্যু হত না এবং হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হত। ঘটনার তদন্তে কোতয়ালী থানা পুলিশ গাফিলতি করায় অকালে তার জীবন ঝরে গেছে বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) নীচতলার মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন নিহত ব্যবসায়ী শাহীনের পরিবারের সদস্যরা। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন- নিহতের ভাগ্নি হোসনে জাহান লিম, মা মোমেনা খাতুন, বড় ভাই মো. মানিক ও বোন মনিকা খাতুন।

লিখিত বক্তব্যে নিহতের বড় ভাই মো. মানিক জানান, তার ছোট ভাই মো. শাহীন (৪১) মৃত্যুর ৬ মাস পূর্ব থেকে ওয়ারী থানা এলাকার শ্বশুরবাড়ীতে স্বস্ত্রীক বসবাস করতো। গত ১৭ জুলাই বেলা ১১টার দিকে শাহীন ও তার স্ত্রী শ্বশুরবাড়ী থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বের হন। পরে তার কোন খোঁজ না পাওয়ায় কোতয়ালি থানায় জিডি করা হয় (জিডি নং- ৯৮৫, তারিখ: ১৯/০৭/২০২৫ ইং)। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ১৮ জুলাই ভোর রাত সাড়ে ৪টার সময় শাহীনের দোকানের ভেতরে শ্যালক মো. আকাশ (২১) ও তার শ্বশুর মো. নাসির উদ্দিন (৬০) ও মো. সাঈদসহ (৩৪) অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি শাহীনের সাথে কথা কাটাকাটি ও তর্কে লিপ্ত হয়। তারা শাহীনকে টানাহেঁচড়া করে। তার স্ত্রী সেখানে থাকাবস্থায় তার শ্যালক মো. আকাশ ছুড়ি নিয়ে শাহীনকে ভয়-ভীতি প্রদর্শণ ও হত্যার হুমকি দেয়। পরদিন শাহীন অফিসের বাইরে বের হলে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে কোতয়ালি থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ২৭, তারিখ: ৩০/০৭/২০২৫ ইং)।

তিনি আরও বলেন, পরে গত ৩ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার ভাই শাহীন মারা গেছে। পরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সিটিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহীনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ট্রেনের বগি থেকে অজ্ঞাত ২ ব্যক্তি কমলাপুর স্টেশনের ১৪ নম্বর প্লাটফর্মে হাত-পা ধরে নিচে নামায়। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শাহীন জীবিত ছিল। এ সময় সে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলো। পরবর্তীতে বিষয়টি কোতয়ালি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা বিষয়টিকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে তদন্তে গড়িমসি করতে থাকে। তারা যদি ঘটনার তদন্তে অবহেলা না করতো তাহলে হয়তো শাহীন প্রাণে বেঁচে থাকতো।

মানিক আরও বলেন, যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক। এমতাবস্থায় তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এমতাবস্থায় বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করতে ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপের জোড় দাবি জানান তিনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) কোতয়ালি থানায় কর্মরত এসআই সোহেল কুদ্দুসের মোবাইল ফোনে একাধিকার বার কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft