প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৫৮ পিএম

রাজধানীতে ব্যবসায়ী শাহীনের অপহরণ ও হত্যা মামলা তদন্তে ডিএমপির কোতয়ালী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। তারা হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে হত্যাকান্ডের শিকার শাহীনের বড় ভাই মো. মানিক জানান, তার ছোট ভাই মো. শাহীন (৪১) মৃত্যুর ৬ মাস পূর্ব থেকে ওয়ারী থানা এলাকার ১৯৯, নং লালমোহন শাহা স্ট্রীটের শ্বশুরবাড়ীতে স্বস্ত্রীক বসবাস করতেন। তিনি ২ নং কুমারটুলি, আকলিমা গোল্ড কমপ্লেক্সের নীচ তলায় বাহার ফটোস্ট্যাটের দোকান দিয়ে ব্যবসা করতেন। গত ১৭ জুলাই বেলা ১১টার দিকে শাহীন ও তার স্ত্রী শ্বশুরবাড়ী থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বের হন আসে। এরপর থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না।
এর প্রেক্ষিতে কোতয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয় (জিডি নং- ৯৮৫, তারিখ: ১৯/০৭/২০২৫ ইং)। পরে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ১৮ জুলাই ভোর রাত সাড়ে ৪টার সময় শাহীনের দোকানের ভেতরে শ্যালক মো. আকাশ (২১) ও তার শ্বশুর মো. নাসির উদ্দিন (৬০) ও মো. সাঈদ (৩৪) নামের ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন ব্যক্তি পরিবারিক বিরোধের জেরে শাহীনের সাথে কথা কাটাকাটি ও তর্ক করতে থাকে এবং শাহীনকে টানাহেঁচড়া করতে দেখা যায়। এ সময় তার স্ত্রীও সেখানে ছিলো এবং তার শ্যালক মো. আকাশ হাতে ছুড়ি নিয়ে শাহীনকে ভয়-ভীতি প্রদর্শণ ও হত্যার হুমকি দিচ্ছিলো। এতে সন্দেহ হয় যে, তারা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় শাহীনকে অপহরণ করে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে কোতয়ালি থানায় উপস্থিত হয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ২৭, তারিখ: ৩০/০৭/২০২৫ ইং)।
তিনি আরও জানান, গত ৩ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ মোবাইল ফোনে জানায় যে, তার ভাই শাহীন মারা গেছে। এ সংবাদ পাওয়ার পর কমলাপুর রেলওয়ের সিটিটিভি ক্যামেরায় দেখতে পাই ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমার ভাই শাহীনকে ৬/৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির উপস্থিতিতে ২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা একটি ট্রেন থেকে কমলাপুর স্টেশনের ১৪ নম্বর প্লাটফর্মে শাহীনকে হাত-পা ধরে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। তখন সময় ছিল সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় শাহীন তখনও জীবিত ছিল। এ সময় সে দুই হাত নেড়ে ইশারা দিয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলো। লোকজন উপস্থিত থাকলেও কেউ তাকে সাহায্য করেনি বা তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি কোতয়ালি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা বিষয়টিকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে তদন্তে গড়িমসি করতে থাকে। তারা যদি ঘটনার তদন্তে অবহেলা না করতো তাহলে হয়তো শাহীন প্রাণে বেঁচে থাকতো।
তিনি জানান, এমতাবস্থায় বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ প্রদানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এছাড়াও তার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা প্রদানেরও দাবি জানান নিহতের বড় ভাই মানিক।