প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫, ৫:০০ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এবং প্রভাবশালী কিছু সচিব ও আমলা এখনো জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক।
আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নবীন দলের উদ্যোগে গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুক বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো- যারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে জাতির সামনে উন্মোচন করা।‘
তিনি বলেন, ‘আপনারা গণঅভ্যুত্থানের সরকার, কোনো ব্যক্তির সরকার নন। এ দেশের জনগণ রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে, সংগ্রাম-আন্দোলন চালিয়ে আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে। অথচ আজ দেখা যাচ্ছে, শেখ হাসিনার প্রেতাত্মা অনেক সচিব ও আমলা এখনো সক্রিয়ভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা নানান অজুহাত সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রক্রিয়া বানচাল করতে চাইছে। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—যাদের এ ধরনের ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্টতা আছে, তাদের নাম জাতির সামনে প্রকাশ করুন এবং কেনো তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তার সঠিক কারণ জানান।’
তিনি জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘দেরিতে হলেও আপনারা ঘোষণা দিয়েছেন যে রোজার আগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এজন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। তবে এর মধ্যেই ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে। তারা বিএনপিকে ‘নব্য ফ্যাসিবাদী’ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি তাদের সতর্ক করে দিতে চাই—বিএনপি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষকের দল এবং একটি আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন। এসব অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।’’
ফারুক অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী আমলা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার হাতে এখনো শেখ হাসিনার প্রভাব রয়ে গেছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সরকার। সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
নবীন দলের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।