গোপালগঞ্জে এলজিইডি কর্তৃক বিভিন্ন সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ: প্রকৌশলী, ঠিকাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ২:২২ পিএম

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলি নির্মাণের অল্প কিছু দিনের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সংগত কারনে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। নির্মাণ ত্রুটি,অদক্ষ ঠিকাদার,অবিবেচক প্রকৌশলী, নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারন রয়েছে নির্মিত সড়কগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার জন্য বলে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে। সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হলেও এলজিইডি'র ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা বিভিন্ন অজুহাতে বরাবরই রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। 

গোপালগঞ্জ এলজিইডি'র বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী পরপর তিন সরকারের আমলে জেলায় প্রায় ৬ বছর দায়িত্ব পালন করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। সকল সরকারি কর্তৃপক্ষের সাথে তার হটলাইন ছিলো। সব সরকারের আমলেই তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে দক্ষতা প্রদর্শন করলেও সড়ক নির্মাণে দক্ষতা দেখাতে তিনি পুরোপুরি ব্যার্থ হয়েছেন। এলজিইডি'র উপজেলা পর্যায়ের প্রকৌশলীরাও ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছেন ঠিকাদারদের অনিয়ম, দুর্নীতিসহ নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ-তালা বাজার সড়ক, কোটালিপাড়া উপজেলার চিত্রাপাড়া এলাকা, মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা-উজানী সড়কগুলি বৃষ্টির কারনে এবং নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারসহ  নির্মাণকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলাজনিত কারনে নির্মাণের বা সংস্কারের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

এসব সড়কগুলির মধ্যে কোটালিপাড়ার চিত্রাপাড়া রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বচসা ও মামলা দায়ের করাকরি হয়েছে।  এমনকি শক্তি প্রদর্শনের মতো ঘটনাও ঘটার উপক্রম হয়। তবে একপর্যায়ে তা মিটেও যায়। গোপালগঞ্জ-তালা বাজার সড়কের উরফি এলাকায় ভূমিধ্বসের শিকার হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সংস্কার করে। কিন্তু নিয়োগকৃত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন করার মাত্র দশ দিনের মধ্যে ফের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

কোটালিপাড়ার চিত্রাপাড়া এলাকায় একটি সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সম্পন্ন করার তিন-চার দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাতের আঙুল দিয়ে কার্পেটিংকৃত অংশ টান দিলে উঠে আসে। মুকসুদপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ টেংরাখোলা থেকে উজানী পর্যন্ত সড়কে অসংখ্য পরিমান বিশালাকৃতির গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ওই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে দীর্ঘদিন ধরে। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সড়কটি সংস্কার হয়না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও জেলার ৫ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত রাস্তাগুলি সরেজমিন তদন্ত করলে অসংখ্য দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে সচেতন মহলের ধারনা।

এসব সড়কগুলির বেহাল অবস্থা নিয়ে গোপালগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এম.এহসানুল হকের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন,আমরা মানুষের সেবায় কাজ করি। ঠিকাদাররা সঠিকভাবে কাজ না করলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। কেউ কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য পেয়ে আমাদের জানালে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবো। 


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft