প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম

সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান এখন তাদের মূল (প্যারেন্ট) কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে নির্ধারিত শর্তে বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে।
সার্কুলারে বলা হয়, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড), হাইটেক পার্কসহ বিশেষায়িত অঞ্চলে এবং এসব অঞ্চলের বাইরে পরিচালিত উৎপাদন ও সেবাখাতের সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এক বছরের কম মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই চলতি মূলধনের জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া কাঁচামাল সংগ্রহসহ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ অল-ইন-কস্ট সুদে ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে। এসব ঋণ মেয়াদ শেষে এককালীন পরিশোধ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত রোলওভার করা যাবে।
এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মূলধনী ব্যয়, যেমন যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও নির্মাণকাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদযুক্ত ঋণ নেওয়া যাবে।
এছাড়া পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ধরনের ঋণে সুদ প্রযোজ্য হলে বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হবে। একই সঙ্গে বকেয়া বৈদেশিক ঋণ ইকুইটিতে রূপান্তরের সুযোগও রাখা হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য তুলনামূলক কম ব্যয়ে বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং দেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জ/উ