প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১১:১৫ এএম আপডেট: ১৪.০৫.২০২৬ ১:২৪ পিএম

কেবল ইরানেই নয় বরং প্রতিবেশী দেশ ইরাকের ভেতরেও অত্যন্ত গোপনে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো ইরাকের অভ্যন্তরে ইরান-সমর্থিত প্রভাবশালী শিয়া মিলিশিয়াদের আস্তানা লক্ষ্য করে এই বোমা বর্ষণ করে। এই অভিযানের সমান্তরালে কুয়েত থেকেও ইরাকে হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরাকি নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তা এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রগুলো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি বিমানবাহিনী মূলত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে এবং সৌদি আরবের উত্তর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে হামলা চালায়।
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই সামরিক তৎপরতা চালানো হয়েছিল। ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশের স্থাপনায় যে হামলা চালিয়েছিল, তার পাল্টা জবাব দিতেই রিয়াদ এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, কুয়েত থেকেও ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত দুইবার রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এপ্রিলে চালানো এমনই এক হামলায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। তবে এই রকেট হামলা কুয়েতি বাহিনী নাকি সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। মার্কিন সেনাবাহিনী এবং কুয়েত সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি এই বিমান হামলার কথা স্বীকার করা না হলেও তারা জানিয়েছে যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে গত মার্চ মাসে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানের অভ্যন্তরেও বেশ কিছু ‘গোপন হামলা’ চালানোর খবর পাওয়া গিয়েছিল, যা ছিল ইরানি ভূখণ্ডে রিয়াদের প্রথম সরাসরি সামরিক অভিযান। ইরাক ও ইরানের ওপর চালানো সৌদি আরবের এসব ঝটিকা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং জটিল সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
জ/উ