প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ২:৫৫ পিএম

মধ্যরাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ৫১তম আবর্তনের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বহিরাগত এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন চারুকলার এক্সটেনশন এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। পরে ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত যুবক বহিরাগত বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস-সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় থাকেন। রিকশা না পেয়ে তিনি শহীদ সালাম বরকত হলের সামনে দিয়ে পুরাতন কলা ভবন এক্সটেনশনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছনে ফিরে দেখেন অজ্ঞাত এক যুবক তাকে অনুসরণ করছে। একপর্যায়ে তিনি ওই যুবকের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে ক্যাম্পাসের ৪৮তম আবর্তনের কথা জানান। এরপরই হঠাৎ রুমাল হাতে ওই যুবক ভুক্তভোগীকে টেনেহিঁচড়ে পাশ্ববর্তী জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভুক্তভোগীকে রুমাল বা কোনো কাপড় দিয়ে গলায় টান দিয়ে টেনেহিঁচড়ে রাস্তার পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায় এক যুবক। কিছুক্ষণ পর ওই ছাত্রী সেখান থেকে বেরিয়ে রাস্তার পাশের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ান। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বাইক নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে উদ্ধার করেন। ফুটেজে ওই যুবকের চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে এবং তিনি বহিরাগত বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।
এ বিষয়ে উদ্ধারকারীদের একজন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, আনুমানিক রাত ১১টা ১০ মিনিটে আমরা কয়েকজন বাইকে করে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একটি মেয়ের চিৎকার শুনতে পাই। আমি প্রথমে দৌড়ে গিয়ে পাশের জঙ্গল থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় এক ছাত্রীকে বের হতে দেখি। তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না, শরীরের বিভিন্ন স্থানে মাটি ও ধুলা। জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, এক বহিরাগত ব্যক্তি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। আমিসহ সেখানে উপস্থিত কয়জন দ্রুত জঙ্গলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেও অভিযুক্তকে পাইনি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে এ ঘটনায় ইতোমধ্যে (বুধবার সকালে) সাভারের আশুলিয়া থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী।
বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অধীনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নিরাপত্তা শাখা থেকে মামলা দায়ের করেছি কিছুক্ষণ আগে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে দ্রুত তারা আসামিকে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, খুবই ন্যক্কারজনক একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে বের করেছি, তবে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে সে বহিরাগত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রয়েছে। ইতোমধ্যে থানায় মামলা করা হয়েছে। আশা করছি, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।
জ/উ