প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ২:৩৩ পিএম

ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকিয়ে থাকা বিষয়টি প্রথমে তেমন গুরুত্বের মনে নাও হতে পারে। একটু পানি খেলেই স্বস্তি মেলে এবং দিনও স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়। তবে যদি এটি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে তা শুধু কম পানি পান করার ফল নয়—এর পেছনে আরও গুরুতর কারণ থাকতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে এই সমস্যাটি আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা এর জন্য দায়ী হতে পারে। যদিও অনেকেই পানিশূন্যতাকে প্রধান কারণ মনে করেন, বাস্তবে এটি সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি মাত্র।
ঘুমের সময় অনেকেই অজান্তে মুখ খুলে শ্বাস নেন, বিশেষ করে যখন নাক বন্ধ থাকে বা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা থাকে। এভাবে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে লালা দ্রুত শুকিয়ে যায়, যা সকালে মুখ শুকনো হওয়ার অন্যতম কারণ। সাইনাস সমস্যা, অ্যালার্জি বা নাকের গঠনতান্ত্রিক সমস্যাও এ অভ্যাস তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া, শুষ্ক মুখ ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। যেমন-অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ঘুমের সময় শ্বাস নিতে বারবার বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে লালা উৎপাদন কমে যায় এবং মুখ শুকিয়ে যায়। এ ধরনের সমস্যায় দিনের বেলাতেও ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
অনেক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ লালার প্রবাহ কমিয়ে দেয়। অথচ লালা মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখা ছাড়াও দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা এবং হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া কিছু শারীরিক অসুস্থতাও এ সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন-অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়ে যাওয়ায় লালা কমে যায়। আবার গ্যাস্ট্রিক রিফ্লাক্স থাকলেও গলা ও মুখে অস্বস্তি তৈরি হয়ে শুষ্কতা দেখা দিতে পারে।
এই সমস্যাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে মুখ শুকিয়ে থাকলে মুখে দুর্গন্ধ, গিলতে সমস্যা, দাঁতের ক্ষয় বা মাড়ির রোগের ঝুঁকি বাড়ে। লালা কমে গেলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা মুখের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই নিয়মিত এমন সমস্যা হলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
জ/উ