৩৬ দিন ধরে বিচারক শূন্যতায় অচল সন্দ্বীপআদালত ভোগান্তিতে চার লাখ মানুষ, বাড়ছে মামলার জট
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০০ পিএম

চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে গত ৩৬ দিন ধরে বিচারক শূন্য থাকায় আদালতের বিচারিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে সন্দ্বীপ উপজেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) পদটি শূন্য থাকায় উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় নিয়মিত মামলা সংক্রান্ত হাজিরা, জামিন, রিমান্ড, এভিডেভিড, কোর্ট ম্যারেজ, অভিযোগ গ্রহণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে বাড়ছে মামলার জট, ব্যাহত হচ্ছে বিচারাধীন মামলাগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম।
সূত্র জানায়, বর্তমানে সন্দ্বীপ আদালতে সিভিল ও ফৌজদারি মিলিয়ে সাত শতাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় এসব মামলার কার্যক্রম এগোচ্ছে না।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম শহরের সহকারী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে প্রয়োজনীয় বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ ও শারীরিক শ্রম-সব দিক থেকেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্দ্বীপ একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় চট্টগ্রাম শহরে যেতে হলে সাগর ও স্থলপথ মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এক দিনের হাজিরার জন্য পুরো দিন কিংবা একাধিক দিন ব্যয় হয়ে যায়। এতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কেউ কেউ এ পরিস্থিতিকে সাধারণ মানুষের প্রতি নির্মম হয়রানি হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
সন্দ্বীপ উপজেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হয় উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। থানায় গ্রেফতারকৃত আসামিদেরও এই আদালতেই হাজির করার বিধান রয়েছে। বর্তমানে এ আদালতে প্রায় সাত শতাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সন্দ্বীপ উপজেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনজুরুল আমীন বলেন, “এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এখানে কোনো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নেই। থানায় কোনো আসামি গ্রেফতার হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার নিয়ম থাকলেও এখন তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে নৌযাতায়াতজনিত হয়রানি, অন্যদিকে এখানকার অধিকাংশ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ায় দ্বিগুণ ভোগান্তিতে পড়ছেন। ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।”
এ বিষয়ে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দিয়ে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ।
জ/দি