প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

শহরের বিষাক্ত বাতাস কেবল ধোঁয়া বা ধূলিকণা নয়; বরং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকে পূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীনের শিয়ান শহরে পরিচালিত এক গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। গত কয়েক বছরে ওই শহরের বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা তিন গুণ বেড়েছে। বাতাসে ভাসমান পিএম-২.৫ কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানিরা। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির আগের ও পরের নমুনা তুলনা করে এই ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে।
গবেষকেরা বলছেন, বাতাসে ভাসমান পিএম–২.৫ কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম। বাতাসের মধ্যে এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পরিমাপ করেছেন। বিশেষ করে কোভিড–১৯ মহামারির আগের ও পরের নমুনা তুলনা করে এই ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে।
চীনের শিয়ান জিয়াওটং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ফোবাং লিউয়ের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। তাঁর দল গ্রীষ্ম ও শীতকালে সংগৃহীত এয়ার ফিল্টার বিশ্লেষণ করে দেখে, মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস বাতাসের প্লাস্টিক–দূষণকে প্রভাবিত করছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, কড়া সূর্যালোক ও ওজোন গ্যাসের উপস্থিতিতে প্লাস্টিক বর্জ্য দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ওজোন প্লাস্টিকের উপরিভাগে ফাটল তৈরি করে বলে সেখান থেকে অতিক্ষুদ্র তন্তু সহজেই বিচ্ছিন্ন হয়ে বাতাসে মিশে যেতে পারে। বাতাস, মানুষের পায়ের ঘর্ষণ কিংবা গাড়ির চাকা এই বর্জ্যকে পিষে আরও ছোট কণায় পরিণত করে। এসব কণা শুষ্ক আবহাওয়ায় ওপরে উঠে যায় এবং বাতাসের সঙ্গে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আমরা প্রতিবার নিশ্বাস নেওয়ার সময় এই প্লাস্টিক তন্তুগুলো আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে।
এর প্রভাবে আক্রান্ত হচ্ছে. শ্বাসনালি ও ফুসফুস। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই প্রদাহ টিউমার, এমনকি ক্যানসার তৈরি করতে পারে।
জ/উ