প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম আপডেট: ১০.০১.২০২৬ ৫:৪৭ পিএম

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং তেলবাহী ট্যাংকার জব্দকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে তখনই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে কেপটাউন উপকূলে যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে চীন রাশিয়া ও ইরান। শুক্রবার চীনের নেতৃত্বে সপ্তাহব্যাপী এই মহড়ায় অংশ নেয় দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ।
বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয় গত বছর উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের অধীনে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে মহড়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জলদস্যুবিরোধী কার্যক্রমের অনুশীলন করা হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
চীন রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিকস জোটের সদস্য। ইরান ২০২৪ সালে এই জোটে যোগ দেয়। এমন এক সময়ে ইরান এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে যখন দেশটির ভেতরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে।
ব্রাজিল ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ব্রিকসের অন্য সদস্য দেশগুলো এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন আগামী শুক্রবার পর্যন্ত মহড়াটি চলবে। তবে অংশগ্রহণকারী সব দেশের নাম তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
কেপটাউনের দক্ষিণে সাইমন্স টাউনে ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মিলনস্থলে অবস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নৌঘাঁটির বন্দরে চীন রাশিয়া ও ইরানের যুদ্ধজাহাজগুলোকে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। নৌ মহড়ায় চীনের পক্ষ থেকে রয়েছে ১৬১ মিটার দীর্ঘ ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ তাংশান। রাশিয়ার বাল্টিক ফ্লিট জানিয়েছে তারা তুলনামূলকভাবে ছোট যুদ্ধজাহাজ স্তোইকি এবং একটি রসদ সরবরাহকারী ট্যাংকার পাঠিয়েছে।
এই মহড়াটি মূলত গত বছরের নভেম্বরের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় জি টোয়েন্টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় কূটনৈতিক কারণে সময়সূচি পেছানো হয়।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই মহড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে। আফ্রিকার সবচেয়ে উন্নত অর্থনীতি ও প্রভাবশালী রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকা ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বমঞ্চের অশুভ শক্তিগুলোকে সমর্থন করছে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া নিয়মিতভাবে ব্রিকসের বিভিন্ন ফোরাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে আসছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে তারা জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। তবে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তে রাশিয়ার উপস্থিতি আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। ২০২৩ সালে বাইডেন প্রশাসন অভিযোগ করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি রুশ জাহাজকে সাইমন্স টাউন নৌঘাঁটিতে ভিড়তে দিয়েছে এবং সেখান থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র তোলার সুযোগ দিয়েছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
রুশ ও ইরানি যুদ্ধজাহাজকে আতিথেয়তা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরেও সমালোচনা হয়েছে। জোট সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স জানিয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রাশিয়া ও ইরানকে নিয়ে এ ধরনের মহড়ার তারা বিরোধিতা করে।
এক বিবৃতিতে দলটি জানায় ব্রিকস সহযোগিতার নামে এই মহড়াগুলো মূলত রাজনৈতিক কৌশল। বাস্তবে সরকার রাশিয়া ও ইরানের মতো বিতর্কিত ও নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পথ বেছে নিচ্ছে।
জ/উ