ফরিদপুরে খেজুরের রস প্রেমিদের জন্য এখনো আছেন কয়েকজন গাছি
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৮ পিএম

প্রকৃতিতে এখন শীতের তীব্রতা। আর এ শীতের সকালে এক গ্লাস রসের স্বাদ নিতে কার না ভাল লাগে। শীত আসলেই খেজুর রস খেতে শিশির ভেজা সকালে দূরদূরান্তে বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে যায় রস ভোজন প্রেমীরা। শীতকে উপেক্ষা করেই ভোর সকাল কিংবা রাতে খেজুর বাগানে ছুটে যান রসের স্বাদ নিতে। শুধু তাই নয়, এই শীতে ধুম পরে ভাঁপা, পুলি, দুধরাজ, পাটিসাপটা সহ খেজুরের রস ও গুড়ের তৈরি হরেক রকমের পিঠার। তাই অনেক রসের পাশাপাশি খেজুর খাটি গুড় ক্রয় করতে ব্যস্ত সময় পার করে।

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আর ইট-পাথরের নগরে এখন খেজুরের গাছের অভাব দেখা দিচ্ছে, রসও প্রায় না পাওয়ার মতো। রস প্রেমীরা নিয়মিত বিশুদ্ধ রস খুঁজে বেড়ায়। তেমনি ফরিদপুরের রসপ্রেমীরা বিশুদ্ধ রস পান করতে আসেন ফরিদপুর শহরে একটু দুরে শীবরামপুরের পুরাতন গ্রাম মাদারডাঙ্গী। আর এই গ্রামের কয়েকজন গাছি রস প্রেমীদের রস ও খাটি গুড়ের চাহিদা মেটাচ্ছেন। তাদের বাগানের রসের টানে শুধু ফরিদপুর শহর নয় বরং বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এসে ভিড় করছেন। অথচ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী রস ও গুড় দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে জানান গাছিরা।

উল্লেখ যোগ্য গাছিদের মধ্যে রয়েছে মোঃ আব্দুল মান্না, মোঃ হারেজ, মোঃ নাছির, মোঃ মজনু। এদের সকলের বয়স ৪০ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। গত ১০ থেকে ২০ বছর ধরে খেজুর বাগান ক্রয় করে খেজুর রসের মৌসুমি ব্যবসা করে যাচ্ছেন । এ বছর মৌসুমি চুক্তিতে ক্রয়কৃত বাগানগুলোতে একাকজনের ২০টি থেকে শুরু করে ৮০টি পর্যন্ত গাছ রয়েছে। সেই গাছগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০-৭৫ লিটার রস নামিয়ে ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করেন। তারা প্রতি লিটার রস বিক্রি করছেন ১০০-১৫০ টাকায়। এবং খাঁটি খেজুরের গুড় বিক্রি করছেন ৫৫০-৬০০ টাকায়।

আরও পড়ুন : বান্দরবানে জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতিতে অনিয়ম থাকলে খতিয়ে দেখবে জেলা প্রশাসন

গাছিদের খেজুরের বাগানে গিয়ে দেখা যায় রস প্রেমীরা রস কিনতে ভীড় করছেন। জানা যায়, ভোরে ক্রেতারা মটর সাইকেল যোগে এসে তার বাগান থেকে টাটকা বিশুদ্ধ রস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে বসে থেকে বানিয়ে নিচ্ছে খাটি গুড়। রস ও গুড় কিনতে এসে ক্রেতারা জানান, আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দিনে দিনে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ফরিদপুরের মধ্যে এমন খেজুর রস ও খাঁটি খেজুরের গুড় পাওয়া যাবে সেটা ভাবিনি। এখানের রসটা অনেক মজা। আর কোন প্রাণী যেন রসে মুখ না দিতে পারে তারা সেই ব্যবস্থাও তারা করেছে দেখলাম। চোখের সামনেই রস সংগ্রহ করায় তারা বিশুদ্ধতার বিষয়টি নিশ্চিত থাকেন। সেই সঙ্গে বাদুড়ের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে প্রতিটি হাঁড়ি ঢেকে রাখা হয়। এবং খেজুরের খাটি গুড় বানানোর প্রক্রিয়াটাও অসাধারণ। চোখের সামনের শুধু রস জ্বালিয়ে তৈরি করছে গুড়।

গাছিরা জানান, প্রতিদিন ২ বেলা গাছ থেকে রস নামাই। ভোর সকাল আর রাত ৯টায়। প্রতি লিটার ১০০-১৫০ টাকা দামে বিক্রি করি। শুধু তাই নয়, খেজুরের রসের সাথে খেজুরের গুড়ের চাহিদাও অনেক। প্রতিদিনের অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করছি খাটি গুড়। ৫-৬ লিটার রস জ্বালিয়ে তৈরি হয় ১কেজি গুড়। প্রতি কেজি গুড় বিক্রি করছি ৫৫০-৬০০ টাকা।

গাছিরা আরও জানান, আমাদের বাগানে দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ রস ও গুড়ের জন্য আসেন। কিন্তু আমরা তাদের চাহিদা মতো রস ও গুড় দিতে পারছি না। এখানে খেজুর বাগান সংখ্যা কম থাকায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তারা আরও বলেন, রস ও গুড়ের ব্যবসা মাত্র তিন মাসের। পুরো বছর এই তিন মাসের মৌসুমের অপেক্ষায় থাকি আমার। আমরা ডিসেম্বর হতে গাছের পরিচর্যায় কাজ করছি।

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft