প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৫৪ পিএম

অস্কারজয়ী অভিনেত্রী কেট উইন্সলেট সম্প্রতি নিজের কৈশোরের একান্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘টিম ডিকিন্স’–এর এক পর্বে তিনি জানান, কিশোরী বয়সে তার জীবনের প্রথম ঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতাগুলোর কিছু ছিল নারীদের সঙ্গেই। যা তার অভিনয়জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বোঝার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল।
পডকাস্টে কেট উইন্সলেট আলোচনা করছিলেন পিটার জ্যাকসনের ১৯৯৪ সালের সিনেমা ‘হেভেনলি ক্রিচারস’ নিয়ে। এই ছবিতে তিনি ও মেলানি লিনস্কি দুই কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করেন, যাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভয়ংকর মাত্রার এক আবেশে রূপ নেয়। সঞ্চালকের প্রশ্নে চরিত্রটির সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পাওয়ার প্রসঙ্গে উইনসলেট বলেন, কৈশোরের সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাকে চরিত্রের গভীর সংযোগ বুঝতে সাহায্য করেছে।
কেট বলেন, আমি এমন কিছু শেয়ার করছি, যা আগে কখনো বলিনি। কিশোরী বয়সে আমার প্রথম কিছু ঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা আসলে মেয়েদের সঙ্গেই হয়েছিল। আমি কয়েকজন মেয়েকে চুমু খেয়েছি, আবার কয়েকজন ছেলেকেও। তবে তখন আমি কোন দিকেই খুব একটা পরিণত ছিলাম না।
তিনি আরও বলেন, ওই বয়সে আমি স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহলী ছিলাম। ছবির দুই মেয়ের মধ্যে যে তীব্র আবেগী সংযোগ দেখা যায়, সেটা আমি গভীরভাবে বুঝতে পেরেছিলাম। খুব সহজেই আমি তাদের জগতে ডুবে গিয়েছিলাম—যে সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত দু’জনের জন্যই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তাদের মধ্যে ছিল প্রচণ্ড অনিরাপত্তা আর মানসিক দুর্বলতা।
উইন্সলেট জানান, ছবির অন্ধকার দিকগুলো তিনি তখন পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও, অল্প বয়সে মানুষ যখন মানসিকভাবে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল থাকে, তখন যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়—সেটার সঙ্গে তিনি নিজেকে মিলিয়ে নিতে পেরেছিলেন।
‘হেভেনলি ক্রিচারস’ ছিল কেট উইনসলেটের ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো সিনেমা। পডকাস্টে তিনি জানান, এই ছবির অডিশনের আগে জীবনে কখনো পুরো একটি সিনেমার চিত্রনাট্যই হাতে নেননি। একই সঙ্গে এটি ছিল পিটার জ্যাকসনের নাট্যধর্মী সিনেমায় প্রথম পদার্পণ। এর আগে তিনি মূলত হরর ও ডার্ক কমেডি ঘরানার কাজেই পরিচিত ছিলেন।
এই ছবির পর উইন্সলেট অভিনয় করেন ‘সেন্স অ্যান্ড সেনসিবিলিটি’, ‘জুড’, ‘হ্যামলেট’–এর মতো প্রশংসিত সিনেমায়। এরপর ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘টাইটানিক’ তাকে বিশ্বজুড়ে তারকাখ্যাতি এনে দেয়।